দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কড়াকড়ি, বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কড়াকড়ি, বন্ধ মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। আন্দোলনকে ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কেন্দ্রীয় দিল্লিজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। বন্ধ রাখা হয়েছে একাধিক মেট্রো স্টেশন এবং সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।

বিক্ষোভের কারণ ও অভিযোগ:  
‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘সিজেপি’ ও বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন দিল্লির যন্তর মন্তরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বাড়তি সুবিধা দিতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক প্রকৃত ভোটারের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অনিয়মের প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষতা ভঙ্গের দায়ে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

কঠোর নিরাপত্তা ও যোগাযোগে বিধিনিষেধ:  
কর্মসূচি প্রতিহত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শুক্রবার রাত থেকেই কেন্দ্রীয় দিল্লিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রশাসন। 
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে জানা যায়, যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্দোলনস্থল সংলগ্ন দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলও বাতিল করা হয়েছে।

পুলিশের নিষেধাজ্ঞা বনাম আন্দোলনকারীদের অবস্থান:  
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের কর্মসূচির শর্ত লঙ্ঘনের কারণে শনিবারের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আয়োজকরা পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। অনুমতি না পেলেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উত্তপ্ত রাজনীতি ও ধরপাকড়:  
এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিশিষ্ট ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল মন্তব্য করেছেন, দেশ বর্তমানে চরম স্বৈরশাসনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান এই বিতর্ক আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলোর রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।