জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি

অনলাইন ডেস্কঃ
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪৫ পিএম
শেয়ার করুন:
জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি

জাপানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওকিনাওয়া দ্বীপে এক স্থানীয় নারীকে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মার্কিন মেরিন কোরের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে দ্বীপে মোতায়েনরত সব মার্কিন সেনার ওপর এক মাসের জন্য সান্ধ্য আইন (কারফিউ) ও মদ্যপানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের আচরণগত মান ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর নিয়মিত সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এই কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস ক্ষুণ্ন হলে তা কেবল দুই দেশের সামরিক জোটের শক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকেও সরাসরি ঝুঁকিতে ফেলে।

ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের রাজধানী নাহার একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী চীনা-জাপানি নারী আনা ইয়াগির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনতাই করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চেকআউট না করায় হোটেলের কর্মীরা কক্ষে গিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

সিসিটিভি ফুটেজে এক মার্কিন সেনাসদস্যের সঙ্গে ভুক্তভোগীকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যের সমন্বিত তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে ২০ বছর বয়সী মার্কিন ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে আটক করা হয়। তবে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যালার্ড তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জাপানজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী টোকিও এবং নাহার রাজপথে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। টোকিওতে ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজার সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে সমন্বিত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ওকিনাওয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি ও অসন্তোষের ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে জাপানে মোতায়েন থাকা বিপুল মার্কিন সামরিক বহরের একটি বড় অংশ—যার মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মেরিন সেনা রয়েছে—এই দ্বীপে অবস্থান করছে। 

১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনা কর্তৃক ১২ বছর বয়সী এক জাপানি কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই দ্বীপে মার্কিন উপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে সামরিক বাহিনীর কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ, বারবার বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাদের বেপরোয়া আচরণের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ বিরাজ করছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার অত্যন্ত সংবেদনশীল জোট সম্পর্ককে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।