৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হলেন মামুন বিশ্বাস

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৪২ পিএম
শেয়ার করুন:
৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ হলেন মামুন বিশ্বাস

মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ১৫৬ জন অসহায়, দরিদ্র ও অভিভাবকহীন তরুণীর বিয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। নিজের আন্তরিক উদ্যোগ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় অর্থাভাবে বিয়ে আটকে থাকা মেয়েদের নতুন জীবনের পথ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। সমাজে তাই তিনি এখন কেবল একজন স্বেচ্ছাসেবী নন, পরিচিতি পেয়েছেন স্নেহময় ‘বাবা’ হিসেবে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাসিন্দা মামুন বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। যেসব দরিদ্র পরিবার অর্থের সংকটে মেয়ের বিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছিল, তাদের পাশে অভিভাবক হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ফেসবুকে মানবিক আবেদন জানিয়ে তহবিল সংগ্রহ করে প্রতিটি বিয়েই তিনি সাধ্যমতো উৎসবমুখর ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করে থাকেন।

সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুটি অসহায় মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই সমাজকর্মী। 

উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকে মানবিক আবেদন জানান মামুন। সেখান থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে গত ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আতিয়ার বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এর মাত্র ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর একই উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের পাশে দাঁড়ান তিনি। চরম আর্থিক সংকটের কারণে সুচিত্রার বিয়ের কথাবার্তা একাধিকবার ভেঙে গিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মামুন বিশ্বাস এগিয়ে আসেন এবং প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ধুমধাম করে তার বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করেন।

এভাবে একে একে ১৫৬ জন মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে তাদের নতুন জীবনের পথ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। মামুন বিশ্বাস যাদের বিয়ে দিয়েছেন, তারা এখন সমাজে স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন এবং মামুন বিশ্বাসকে নিজের বাবার মতোই শ্রদ্ধা করেন। 

স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তরুণ বয়সে এমন নিঃস্বার্থ ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।