ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৪ পিএম
শেয়ার করুন:
ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেননি আদালত

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলাটি গ্রহণ করার মতো পর্যাপ্ত আইনগত উপাদান না থাকায় আদালত এ আদেশ দেন। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এ মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরবর্তীতে আবেদনটি খারিজ করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখযোগ্য আসামিরা  
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করা হয়।

এছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সারজিস আলম, আক্তার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব ও সালেহ উদ্দিন সিফাত। 

তালিকায় অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সারোয়ার, কর্নেল (অব.) নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী এবং আবুল কালাম আজাদ।

মামলার অভিযোগে যা বলা হয়েছিল 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদ, উসকানি ও সহযোগিতায় অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তি লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতিজড়িত বাসভবনে আক্রমণ চালায়। তারা ভবনে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক দলিল, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক, প্রামাণ্যচিত্র ও মূল্যবান সম্পদ লুটপাট ও ধ্বংস করে এবং পরে ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সময়ে বুলডোজার, এক্সক্যাভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে পরদিন বিকেল পর্যন্ত ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আসামিদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি লাইভে এসে ও উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে এই হামলায় মদদ জুগিয়েছেন এবং পূর্বঘোষণা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভবনটি রক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।

তবে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা ও বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলার ভিত্তিগত উপাদান না থাকায় বিজ্ঞ আদালত আবেদনটি সরাসরি খারিজের নির্দেশ দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।