যে কারণে নিজেদের বসার ঘরেই বিয়ে করলেন রোনালদো-জর্জিনা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৫০ পিএম
শেয়ার করুন:
যে কারণে নিজেদের বসার ঘরেই বিয়ে করলেন রোনালদো-জর্জিনা

চাইলে কোনো রাজপ্রাসাদ, ব্যক্তিগত দ্বীপ কিংবা বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলে স্মরণকালের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করতে পারতেন পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। কিন্তু জীবনের অন্যতম বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপনে বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তকেই বেছে নিলেন এই তারকা যুগল। নিজেদের পর্তুগালের কাসকাইসের নতুন বাড়ির বসার ঘরেই অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তারা।

বিশেষ দিনে বিশেষ অঙ্গীকার
গত ১১ আগস্ট বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন রোনালদো ও জর্জিনা। দিনটি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল এক অনন্য কারণ। ঠিক ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের এই দিনটিতেই মাদ্রিদের একটি গুচি শোরুমে দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল। পরিচয়ের ঠিক এক দশক পূর্তির দিনটিকেই নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে বেছে নিলেন তারা। 

বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংটি পরা হাতের একটি ছবি প্রকাশ করেন রোনালদো; ক্যাপশনে নিজেদের নামের আদ্যক্ষরের মাঝে জুড়ে দেন ভালোবাসার প্রতীক। 

বসার ঘরে বিয়ের সিদ্ধান্ত কেন?
আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জিনা জানান, ছোটবেলায় বিশাল প্রাসাদ, দীর্ঘ গাউন, ঘোড়ার গাড়ি আর হীরার মুকুট পরে রাজকীয় বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তবে রোনালদোর সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার পর তার কাছে লোকদেখানো আয়োজনের চেয়ে পারিবারিক অন্তরঙ্গ মুহূর্তই বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে।

জর্জিনা বলেন, “আমি আমার জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের নিয়ে ঘরের শান্ত পরিবেশেই মুহূর্তটি উদ্‌যাপন করতে চেয়েছি। আমাদের ব্যস্ত জীবনে এমন নিরিবিলি আয়োজন সত্যিই দুর্লভ।”

যে বসার ঘরে পরিবারটি প্রতিদিন সকালের নাশতা থেকে শুরু করে রাতের খাবার খায়, ঠিক সেখানেই সন্তানদের উপস্থিতিতে পরস্পরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন রোনালদো ও জর্জিনা। স্মৃতিচারণ করে জর্জিনা বলেন, “৩০ বছর পর সন্তানরা যেন মনে করে, এই খাবার টেবিলেই তাদের মা-বাবার জীবনের অসাধারণ এক অধ্যায় রচিত হয়েছিল।” স্ত্রীর এমন আবেগঘন কথায় রসিকতা করে রোনালদো বলেন, “তত দিনে হয়তো একই টেবিল থাকবে না, আমরা ঘরের সাজসজ্জা বদলে ফেলতে পারি!”

ধর্মীয় আশীর্বাদ ও নেই কোনো মধুচন্দ্রিমা
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পর্তুগালের ফাতিমায় অবস্থিত ‘আওয়ার লেডি’ অভয়ারণ্যে যান রোনালদো ও জর্জিনা। সেখানে জনসমাগম এড়াতে একটি ছোট প্রার্থনাকক্ষ সাময়িক বন্ধ রেখে ধর্মযাজক তাদের আশীর্বাদ করেন। 

বিয়ের পর কোনো মধুচন্দ্রিমায় (হনিমুন) যাননি এই তারকা দম্পতি। নতুন ফুটবল মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করার জন্য বিয়ের পরদিনই রোনালদোকে সৌদি আরবের রিয়াদে ফিরে যেতে হয়। মধুচন্দ্রিমা না যাওয়া প্রসঙ্গে রোনালদোর সহজ উত্তর, “আমাদের প্রতিটি দিনই মধুচন্দ্রিমার মতো।”

ঘরোয়াভাবে বিয়ে সারলেও ভবিষ্যতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে বড় পরিসরে একটি পার্টির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে পরিচয়ের এক দশক পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে আর পিছিয়ে দিতে চাননি তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।