আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসে অচলাবস্থা: পোস্টম্যানের কাঁধে মাস্টারের দায়িত্ব, দুই সপ্তাহ লেনদেন বন্ধ

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসে অচলাবস্থা: পোস্টম্যানের কাঁধে মাস্টারের দায়িত্ব, দুই সপ্তাহ লেনদেন বন্ধ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টার না থাকায় একজন পোস্টম্যানকে (চিঠিবিলি কারক) ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুই পদের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে এবং দাপ্তরিক কাজে অনভিজ্ঞ হওয়ায় সেবা কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ফলে গত ১৪ দিন ধরে পোস্ট অফিসের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার মুখে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে না পেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আগৈলঝাড়া উপজেলা পোস্টমাস্টার মো. রাশেদ হাসান চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিনকে পোস্টমাস্টারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাবের আর্থিক লেনদেন পরিচালনা বন্ধ রেখেছেন। ফলে গ্রাহকরা কোনো টাকা জমা দিতে পারছেন না, আবার জমাকৃত টাকা তুলতেও পারছেন না। এমনকি জীবন বীমার মাসিক কিস্তি দিতে এসেও অনেক গ্রাহককে বারবার ঘুরে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টারের দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন সকালে কিছু সময় দাপ্তরিক কাজ সামলানোর পর নিজেই উপজেলা সদরে চিঠিপত্র বিলি করতে বেরিয়ে পড়েন। উপজেলা সদরের সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, থানা, স্থানীয় বাজার ও পার্শ্ববর্তী গ্রামে চিঠি বিলি করতে তাঁর প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময় পোস্ট অফিস কার্যত নেতৃত্বহীন থাকে। জরুরি প্রয়োজনে আসা গ্রাহকদের অফিসে থাকা মেইল ক্যারিয়ার কাম প্যাকার এনায়েত হোসেন ও নৈশপ্রহরী মো. শাহ আলম সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পোস্টমাস্টারের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। 

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে মোট ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। এখানে ১ জন পোস্টমাস্টার, ২ জন পোস্টাল অপারেটর, ১ জন পোস্টম্যান, ১ জন রানার ও ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন পোস্টম্যান, একজন প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার, একজন রানার ও একজন নৈশপ্রহরী দিয়ে চলছে পুরো অফিসের কাজ। জনবল সংকটের কারণে গ্রাহক ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমানতকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "উৎসবের আগে জরুরি প্রয়োজনে জমানো টাকা তুলতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। পোস্টমাস্টার না থাকায় টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এমন ভোগান্তিতে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।"

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টারের দায়িত্বে থাকা পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, "পোস্টমাস্টার চলে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু পোস্টমাস্টারের কাজ আমি বুঝি না। এছাড়া এটি টাকা-পয়সার সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে লেনদেন করার সাহস পাচ্ছি না।"

বরিশালের পোস্ট অফিস পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসে সঞ্চয় ব্যাংকের প্রচুর কাজ থাকে। পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে পোস্টমাস্টারের এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। আগের কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় এই সাময়িক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।"

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশালের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল নাঈম ইবনে রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।