এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আদালতের নির্দেশে জাল দলিলের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে প্রতিহিংসা ও আক্রোশের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেদনের জেরে কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হওয়া মামলার এক আসামি তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত সাংবাদিকের দাবি, তাঁদের দলিলটি জাল নয়; কোনো ধরনের সঠিক তদন্ত ছাড়াই একপেশে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক মো. সেলিম মিয়া, তাঁর বাবা, ভাই, চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের জমি দখল এবং নামজারি (মিউটেশন) করার অভিযোগ ওঠে। বিরোধপূর্ণ ২১১/২০০১ নম্বর দলিলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত বালাম ও রেকর্ডের গরমিল পাওয়া গেলে দলিলটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার মজিবুল হক দলিলটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা (মামলা নং-১১৩/২০২৬) দায়ের করেন।
আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তভার পেয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রতিবেদন দাখিল করেন সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক। তদন্তে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া ও জমি দখলসংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতের আদেশে মামলার প্রধান আসামিরা প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হক জানান, সম্প্রতি আসামিরা জামিনে মুক্তি পান। এরপর গত ৪ অক্টোবর সাংবাদিক সেলিম তাঁর কার্যালয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর, গত ৯ অক্টোবর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তাঁর বিরুদ্ধে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সিরাজুল হক বলেন, “আদালতের নির্দেশে সরকারি দায়িত্ব পালন করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় আমাকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করা হয়েছে। মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করে আমার পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা এভাবে প্রতিহিংসার শিকার হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক সেলিম মিয়া বলেন, “আমাদের দলিলটি জাল নয়। সাব-রেজিস্ট্রার কোনো ধরনের যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই একপেশেভাবে এই প্রতিবেদন দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সদস্য সোহরাব হোসেন বলেন, “জাল দলিলের মামলায় ওই সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কারাভোগ করেছেন। জামিনে বেরিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারকে জড়িয়ে যেসব খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচার।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “মূলত একটি জাল দলিল টেম্পারিং (ঘষামাজা) করে নামজারির জন্য জমা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালত সাব-রেজিস্ট্রারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে দলিল জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পরই তিনি প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং আদালত জড়িতদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।”
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
জাতীয় | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সারাদেশ | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।