আলাদা হওয়ার ভয়ে এক ব্যক্তিকেই তিন বোনের বিয়ে

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৪০ পিএম
শেয়ার করুন:
আলাদা হওয়ার ভয়ে এক ব্যক্তিকেই তিন বোনের বিয়ে

বিয়ের পর একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ভারতের উত্তর প্রদেশে এক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিন বোন। শৈশবের গভীর বন্ধন অটুট রাখতে নিজেদের ক্যামেরাম্যানকে একসঙ্গে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। অদ্ভুত এই বিয়ের ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলার হাসানপুর এলাকায়।

আলোচিত এই তিন তরুণী হলেন সরোজ (২০), সাবিত্রী (১৯) ও সন্তোষ (১৮)। তাঁরা আমরোহা জেলার হাসানপুরের ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করেন। অন্যদিকে তাঁদের পাত্র বিকাশ পেশায় একজন ক্যামেরাম্যান। গত ছয় মাস ধরে তিনি এই তিন বোনের ভিডিও তৈরির কাজ করছিলেন এবং বিভিন্ন ভিডিওতে প্রায়ই স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করতেন। সম্প্রতি হাসানপুরের চামুণ্ডা মাতা মন্দিরে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিকাশ একে একে তিন বোনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন। তবে এই আয়োজনে পাত্র কিংবা পাত্রী—কারও পরিবারেরই কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

এমন ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বড় বোন সরোজ জানান, শৈশব থেকেই তাঁরা একসঙ্গে বড় হয়েছেন। পরিবার থেকে তাঁদের আলাদাভাবে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে বিচ্ছেদের ভয়ে তাঁরা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পথ বেছে না নিয়ে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গেই একই ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা চারজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন। 

পাত্র বিকাশও জানান, তিন বোনের গভীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি তাঁদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। নিজেদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন বোন আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে হিন্দু পুরাণের রাজা দশরথের তিন রানির প্রসঙ্গ টেনে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন।

তবে এই বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী অনুরাগ পান্ডে জানান, ভারতীয় হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act) অনুযায়ী এক পুরুষের একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের কোনো বিধান নেই। তাই আইনের দৃষ্টিতে এই বিয়ে পুরোপুরি অবৈধ ও বাতিল।

হাসানপুরের পুলিশ সার্কেল অফিসার পঙ্কজ ত্যাগী জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ চারজন এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রত্যেকে প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজ ইচ্ছায় এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থী দাবি করে কিছু সংগঠন আপত্তি জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।