নেছারাবাদে কাঠবোঝাই ভ্যান উল্টে ভ্যানচালক বাবার মৃত্যু, শিশু পুত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
নেছারাবাদে কাঠবোঝাই ভ্যান উল্টে ভ্যানচালক বাবার মৃত্যু, শিশু পুত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক

পিরোজপুরের নেছারাবাদে কাঠবোঝাই ভ্যান উল্টে স্বপন মিয়া (৫০) নামে এক ভ্যানচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় তাঁর চার বছর বয়সী শিশুপুত্র গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের হাজীরপুর এলাকার স্টিল ব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত স্বপন মিয়া উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ি গ্রামের মোঃ মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে স্বপন মিয়া কাঠবোঝাই ভ্যান নিয়ে স্টিল ব্রিজে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালের খাদে পড়ে যায়। এতে ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান স্বপন মিয়া। 

এ সময় ভ্যানে থাকা তাঁর চার বছরের শিশুসন্তানও গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় রাতে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা রাতেই শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে শিশুটির মা তিন সন্তান ও স্বামীকে ফেলে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই অসহায় স্বপন মিয়া ছোট এই শিশুটিকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে পারতেন না। শিশুটিকে নিজের ভ্যানে বসিয়েই কাঠ ও মালামাল টানতেন তিনি। এভাবে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্ত্রীর রেখে যাওয়া ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করছিলেন। 

স্বপন মিয়ার আরও দুই ছেলে রয়েছে; যাদের একজনের বয়স ১২ ও অন্যজনের ৮ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে অন্য দুই সন্তানও এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে। 

হতদরিদ্র স্বপন মিয়ার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। শিশুটির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে ইতোমধ্যেই স্থানীয়রা সাধ্যমতো অর্থ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। 

শিশুটির চাচা সাদ্দাম বলেন, “বাচ্চাটির অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন, যা জোগাড় করা আমাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে।”

শিশুটির সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া ও সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।