৫৪ রানের লজ্জা পেরিয়ে ডারউইনেই টাইগারদের অস্ট্রেলিয়া বধ

অনলাইন ডেস্কঃ
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
৫৪ রানের লজ্জা পেরিয়ে ডারউইনেই টাইগারদের অস্ট্রেলিয়া বধ

মাত্র আট দিন আগের কথা। ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে লজ্জার মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে ঠিক আট দিন পর একই শহরের মারারা (টিআইও) স্টেডিয়ামে লেখা হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মহাকাব্য। প্যাট কামিন্সদের পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।

আট দিনে লজ্জাকে গৌরবে রূপান্তর

সফরের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের চেয়ে কম ছিল না। মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি ম্যাচে তরুণ পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসনের তোপে মাত্র ২২ ওভারে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছিল টাইগাররা। সেই ধাক্কার পর স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজলউডদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশ কীভাবে দাঁড়াবে, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে সেই মাঠেরই কমপ্লেক্সের মূল স্টেডিয়ামে সম্পূর্ণ নতুন এক বাংলাদেশকে দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। 

পেসারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ধস

মারারা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে তার সেই সিদ্ধান্তকে প্রথম দিনেই ভুল প্রমাণ করেন বাংলাদেশের পেসাররা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। স্টিভ স্মিথের লড়াই করা ৭১ রান ছাড়া স্বাগতিকদের আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। একাই ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। বাকি ৪ উইকেটের দুটি করে ভাগ করে নেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন।

তানজিদ তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও বড় লিড

জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ সামলে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস গড়ে সফরকারীরা। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ১০১ রানের দুর্দান্ত এক শতক উপহার দেন তানজিদ হাসান তামিম। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। 

তামিমের শতকের পাশাপাশি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ এবং মুমিনুল হকের ৪৯ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ তোলে ৪২৬ রানের পাহাড়। অজি পেসার জশ হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়েও বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ থেকে আটকাতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড।

গ্রিনের লড়াই ছাপিয়ে মিরাজের ঘূর্ণি
দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালায় অজিরা। তবে অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত উইকেট তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ। এবার স্পিন জাদুতে অজি ব্যাটিং লাইনাপ গুঁড়িয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি ৬৬ রান খরচায় তুলে নেন ৫ উইকেট। হাসান মাহমুদ নেন আরও ৩ উইকেট (ম্যাচে মোট ৯ উইকেট)। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া, ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

জয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও ইতিহাস স্পর্শ

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ তামিম শূন্য রানে হ্যাজলউডের শিকার হয়ে দ্রুত বিদায় নিলেও কোনো চাপ পড়তে দেননি অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও ওপেনার শাদমান ইসলাম। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ১৪.২ ওভারেই দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। বিউ ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত এক চার মেরে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল (৩০*)। অপর প্রান্তে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন শাদমান। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথম জয়টি এসেছিল ২০ রানে। তবে ক্যাঙ্গারুর দেশে গিয়ে তাদেরকেই টেস্টে হারানো টাইগারদের লাল-সবুজ ক্রিকেট ইতিহাসে যোগ করল এক অবিস্মরণীয় নতুন পালক।

সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড:

অস্ট্রেলিয়া (১ম ইনিংস): ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১; হাসান ৬/৪২, তাসকিন ২/৪১, এবাদত ২/৪৪)
বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ৪২৬/১০ (তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মিরাজ ৬৫, মুমিনুল ৪৯; হ্যাজলউড ৬/৯২)
অস্ট্রেলিয়া (২য় ইনিংস): ২৮৪/১০ (গ্রিন ১০৪; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান ৩/৫৮)
বাংলাদেশ (২য় ইনিংস): ৫৭/১ (মুমিনুল ৩০*, শাদমান ২৫*; হ্যাজলউড ১/১৮)
ফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।