এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
সরকারি নজরদারির অভাব ও অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ফরিদপুরের সদরপুরের ঐতিহাসিক বাইশরশি জমিদার বাড়িটি অবশেষে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রত্নসম্পদ আইন অনুযায়ী বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণার লক্ষ্যে ভূমি তফসিলসহ স্থানীয় প্রশাসনের মতামত চেয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের রাজনীতিক শহিদুল ইসলাম বাবুলের তৈরি একটি প্রামাণ্য ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার (ভাইরাল) পরই এই পদক্ষেপ নিল সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
ফরিদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে সদরপুর উপজেলায় অবস্থিত প্রায় দুইশত বছরের প্রাচীন এই বাইশরশি জমিদার বাড়ি। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, এককালের প্রভাবশালী বাইশরশি জমিদাররা বৃহত্তর ফরিদপুর ও বরিশালসহ মোট ২২টি পরগনা বা জোত মহলের অধিপতি ছিলেন। জমিদারি পরিচালনার সুবিধার্থে ও পারিবারিক বসবাসের জন্য তখনকার সময়ে প্রায় ৫০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এই রাজকীয় প্রাসাদ। দৃষ্টিনন্দন এই কমপ্লেক্সে রয়েছে দ্বিতল বিশিষ্ট ছোট-বড় ১৪টি দৃষ্টিনন্দন ভবন, সুপরিসর বাগানবাড়ি, একাধিক পুকুর ও পূজামণ্ডপ।
তবে সুদীর্ঘকাল ধরে কোনো সরকারি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় কালের সাক্ষী এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে চলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় দিনের পর দিন বাড়িটির মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। ভবনের কাঠের আড়া কেটে নেওয়ায় ইতোমধ্যে কয়েকটি কক্ষের ছাদ ধসে পড়েছে। এছাড়া দরজা-জানালা ও মূল্যবান লোহার গ্রিলও খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা, যার ফলে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে এর স্থাপত্যসৌন্দর্য।
ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষায় সম্প্রতি এগিয়ে আসেন শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি সরেজমিনে গিয়ে জমিদার বাড়ির ভগ্নদশা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করেন, যা নেটদুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন তোলে। একই সঙ্গে তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “সদরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়িটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য অংশ। দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকায় এটি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। আমি বিষয়টি অনুধাবন করে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে বিস্তারিত জানাই। বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করায় আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।”
এদিকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এমন পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন সদরপুরবাসী। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করে জমিদার বাড়িটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হলে এটি বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
ফরিদপুর | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
শিক্ষা | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।