কাপ্তাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪৭ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কিন্নরী হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত টেলিকনফারেন্স সমাপ্তির পর স্থানীয়ভাবে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা তথ্য সহকারী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম। এতে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহলা অং মারমা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ সফলভাবে পাইলটিং উদ্বোধনের ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। 

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইন ডেটাবেইজে সংরক্ষিত হচ্ছে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পিএমটি (প্রক্সি মিনস টেস্ট) পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবারকে ৫টি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম অর্জনকারী নারী পরিবার প্রধানগণ এই ভাতার আওতায় আসবেন। দেশের সকল নারী পরিবার প্রধানকে কার্ড দেওয়া হলেও মূলত ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্ত নারীরা নিয়মিত ভাতা পাবেন।

কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশের ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ভাতার আওতায় আনা হবে এবং আগামী ৩ বছরের মধ্যে সকল যোগ্য নারীকে এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ফ্যামিলি কার্ডে রয়েছে ‘ডুয়াল চিপ’, ‘কিউআর কোড’ এবং ‘এনএফসি’ সুবিধা। কার্ডটি জাতীয় পেমেন্ট স্কিম ‘টাকাপে’র (TakaPay) সাথে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে উপকারভোগীরা এটিএম বুথ, পিওএস মেশিন ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে সহজেই ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

পরিশেষে, নারীর অধিকার ও উন্নয়নমুখী এ যুগান্তকারী কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ইতিবাচক প্রচার ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন উপস্থিত বক্তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।