মনীষার সঙ্গে বিচ্ছেদ যেভাবে ভেঙে দিয়েছিল নানা পাটেকরকে

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন:
মনীষার সঙ্গে বিচ্ছেদ যেভাবে ভেঙে দিয়েছিল নানা পাটেকরকে

নব্বইয়ের দশকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকর এবং অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সম্পর্ক। বড় পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তেমনি পর্দার বাইরে তাঁদের ব্যক্তিগত রসায়নও একসময় রূপালি জগতের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে ওঠে। তবে সেই সম্পর্কের পরিণতি সুখকর হয়নি; বিচ্ছেদ ঘটেছিল দুজনের। বিচ্ছেদের বেদনা নানা পাটেকরকে গভীরভাবে নাড়া দিলেও মনীষার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধে কখনো ভাটা পড়েনি।

পর্দায় রসায়ন থেকে প্রেম ও দূরত্ব 
নব্বইয়ের দশকে ‘খামোশী: দ্য মিউজিক্যাল’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’র মতো প্রশংসিত সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা ও মনীষা। কাজের সূত্র ধরেই তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। তবে ইন্ডাস্ট্রির সূত্র অনুযায়ী, ‘যুগপুরুষ’ সিনেমায় কাজ করার সময় তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং একপর্যায়ে দুজন আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ও নানার আবেগ 
সম্পর্ক ভাঙার পর দীর্ঘ সময় এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি কেউই। তবে ১৯৯৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিচ্ছেদের ক্ষত নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেদিন তাঁর চোখে জল চলে এসেছিল। তিনি বলেছিলেন,  
“সেটি ছিল ভীষণ কঠিন সময়। এই যন্ত্রণা কেবল সে-ই বুঝবে, যে নিজে এই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গেছে। আমি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মনীষাকে খুব মনে পড়ে।”

মনীষার প্রতিভায় মুগ্ধতা

সম্পর্কের ইতি ঘটলেও মনীষার অভিনয়প্রতিভার প্রতি নানার শ্রদ্ধা ছিল অটুট। অভিনেত্রীর মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন,  
“মনীষার প্রতিভা একেবারেই সহজাত। আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের একজন সে। সে অনেকটা কস্তুরীমৃগের মতো। তাকে বুঝতে হবে যে অন্য কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার কোনো প্রয়োজন নেই; তার নিজের মধ্যেই সবকিছু রয়েছে এবং সেটাই যথেষ্ট।”

কঠিন সময়ে মনীষা ও নানার উদ্বেগ 
বিচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে মনীষার ব্যক্তিগত জীবনও বেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যায়। পরবর্তীকালে নিজের স্মৃতিকথা ‘হিলড’-এ সেই দুঃসময়ের কথা অকপটে স্বীকার করেন মনীষা। মানসিক অবসাদ কাটাতে ও নিজেকে অসাড় রাখতে একসময় তিনি অতিরিক্ত মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েছিলেন।  
মনীষার এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে ব্যথিত হয়েছিলেন নানা-ও। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন,  
“সে নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ তার বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।”

ব্যক্তিগত জীবন ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা
মনীষার সঙ্গে সম্পর্কের সময় নীলকণ্ঠীর সঙ্গে নানার আইনি বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল ছিল, যদিও তাঁরা আলাদা থাকতেন। অন্যদিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করেন মনীষা; তবে দুই বছরের মাথায় সে সংসারের ইতি ঘটে।

প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘটলেও মনীষা ও নানা পাটেকরের এই অধ্যায়টি কেবল বিচ্ছেদের গল্প নয়—বরং বিচ্ছেদের পরও একজন শিল্পীর প্রতি অন্য শিল্পীর অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও অনুভূতির এক অনন্য দলিল হয়ে রয়ে গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।