নোয়াখালীতে চিকিৎসায় অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে চিকিৎসায় অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে স্বজনদের ভাঙচুর

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে।

নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।

স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় রোগের পূর্ববর্তী রিপোর্ট চিকিৎসকদের দেখানো হলে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। এর কিছুক্ষণ পরই রিমির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে এবং অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় সেখানে অক্সিজেন নেই। পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শিশুটির মা উম্মে সালমার দাবি, নার্স ও চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা এবং চরম অবহেলার কারণেই তার কোল খালি হয়েছে।

এদিকে শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ ভেতরে-বাইরে ভাঙচুর চালান। এতে রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার। তিনি জানান, শিশুটি আগে থেকেই নিউমোনিয়াসদৃশ জটিলতায় ভুগছিল এবং প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছিল। তাকে অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় এখানে আনা হয়। 

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে স্যালাইন চলাকালীন মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে গিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। শিশুটি হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ছাড়া হাসপাতালে ভাঙচুরের পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ জানান, নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই হাসপাতালে কিছুটা ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।