বকেয়া বেতন ও ফসলের ক্ষতিপূরণ দাবিতে আলফাডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৫৩ পিএম
শেয়ার করুন:
বকেয়া বেতন ও ফসলের ক্ষতিপূরণ দাবিতে আলফাডাঙ্গায় সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বকেয়া বেতন-ভাতাসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ এবং চুক্তি অনুযায়ী ঘাস ও ভুট্টা চাষে হওয়া বিপুল আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. নাসিরুজ্জামান। একই সঙ্গে পাওনা অর্থ আদায় এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।  

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আলফাডাঙ্গা ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাসিরুজ্জামান জানান, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর ‘মোহাম্মদীয়া’ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইমামুল হক জনির আহ্বানে তিনি ঢাকায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে লজিস্টিক ইনচার্জ পদে যোগ দেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ইউসুফ আলামিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তার অনুরোধে চাকরির নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ইউসুফ আলামিনের গরুর খামার পরিচালনার দায়িত্বও গ্রহণ করেন।  

নাসিরুজ্জামান দাবি করেন, শুরুতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে কাজের পরিধি বাড়ায় বেতন বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা করার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।  

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউসুফ আলামিনের অনুরোধেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় জমি লিজ নিয়ে গবাদিপশুর জন্য ঘাস ও ভুট্টা চাষ শুরু করেন। কথা ছিল উৎপাদিত সমস্ত ঘাস ও ভুট্টা নির্ধারিত মূল্যে কিনে নেবে খামার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরবর্তীতে তারা উৎপাদিত ফসল নিতে অস্বীকৃতি জানায়।  

পাওনা অর্থের বিবরণ তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বেতন বাবদ ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, বোনাস ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ছুটির টাকা ২ লাখ ৮২ হাজার এবং অন্যান্য পাওনা ৯০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ২৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা তার বকেয়া রয়েছে।  

এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬৫ একর জমিতে জমি লিজ, শ্রমিক মজুরি, বীজ ও আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ঘাস ও ভুট্টা চাষে তার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি ‘আদিয়াত ফার্ম’ ঘাস না নেওয়ায় জমি পরিষ্কার বাবদ তাকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৩ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে, যা তাকে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে।  

ভুক্তভোগী নাসিরুজ্জামান বলেন, "পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে ইউসুফ আলামিনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। উল্টো পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বর্তমানে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।" এ পরিস্থিতিতে তিনি পাওনা টাকা উদ্ধার এবং নিজের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।  

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মো. ইউসুফ আলামিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।