গণধর্ষণের তথ্য মেলেনি! আলফাডাঙ্গায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি ছাড়লো মাদ্রাসাছাত্রী

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৩ আগস্ট, ২০২৬ ৯:১৭ পিএম
শেয়ার করুন:
গণধর্ষণের তথ্য মেলেনি! আলফাডাঙ্গায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি ছাড়লো মাদ্রাসাছাত্রী

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘গণধর্ষণের’ দাবির সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই কিশোরী বাড়ি ছেড়ে কাশিয়ানীতে চলে গিয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার শৈলমারী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইউসুফেরবাগ মহিলা মাদ্রাসার মাওলানা বিভাগের ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী গত ২৩ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রাণ কোম্পানির এসআর সাজ্জাত (২৮)-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কাশিয়ানী উপজেলার তার বোনের বাড়িতে চলে যায়। পরদিন ২৪ জুলাই ভিকটিমের বাবা মো. কুদ্দুস মোল্যা আলফাডাঙ্গা থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ভিকটিমের বাবা মো. কুদ্দুস মোল্যা জানান, ২৬ জুলাই তার মেয়ে ফোন করে জানায়, সে নিজের ইচ্ছায় একটি ছেলের সঙ্গে রয়েছে এবং ভালো আছে। পরদিন সাজ্জাতের বোন ফোন করে জানান, মেয়েটি কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের কোড়ামারি গ্রামে তাদের বাড়িতে রয়েছে। পরে ২৮ জুলাই আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে তিনি সেখানে গিয়ে মেয়েকে নিজ হেফাজতে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

ভিকটিম অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাজ্জাতের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে আলফাডাঙ্গা থানার ওসির দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো. আল-আমিন জানান, ভিকটিম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আজম খান বলেন, পরিবার প্রথমে মেয়েটিকে পুলিশি হেফাজতে দিতে রাজি হয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, বিষয়টি প্রকাশ পেলে ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যা হতে পারে। পরে সোমবার (৩ আগস্ট) মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাণ কোম্পানির পরিচিত কর্মচারী জয় কুণ্ডু শৈলমারী বাজারে ভিকটিমের বাবার দোকানে মালামালের অর্ডার নিতে গেলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে সন্দেহ করে আটক করেন। পরে কয়েকজন তাকে আলফাডাঙ্গায় নিয়ে এসে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্তে জয় কুণ্ডুর এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এএসপি মো. আজম খান আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি গণধর্ষণের ঘটনা নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভিকটিম বা তার পরিবার ধর্ষণের মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।