বগুড়ায় কোলে ৪৫ দিনের নবজাতক, পায়ে বাঁধা ৭,৮০০ পিস ইয়াবা: আলফাডাঙ্গার দম্পতি গ্রেপ্তার

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৬ এএম
শেয়ার করুন:
বগুড়ায় কোলে ৪৫ দিনের নবজাতক, পায়ে বাঁধা ৭,৮০০ পিস ইয়াবা: আলফাডাঙ্গার দম্পতি গ্রেপ্তার

বগুড়ায় মাত্র ৪৫ দিনের এক নবজাতককে কোলে নিয়ে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা পাচারের সময় স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন প্রায় ৭৫০ গ্রাম।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা থেকে বগুড়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনারান্দিয়া গ্রামের জাফর সরদারের মেয়ে সারমিন খানম (২৫) এবং একই উপজেলার টোনাপাড়া গ্রামের রুস্তম মৃধার ছেলে সোহাগ মৃধা (৩১)। তাঁরা বর্তমানে ঢাকার মিরপুর-১-এর আহম্মদনগর এলাকায় বসবাস করছিলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বামী সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

ডিএনসি বগুড়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে এক দম্পতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে কোলে দুধের শিশুকে নিয়ে মাদকের একটি বড় চালান পরিবহন করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির উপপরিচালক মোহাঃ জিললুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল শাজাহানপুরের নয়মাইল জামালপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। 

পরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘আর কে ট্রাভেলস’ নামের একটি দূরপাল্লার বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে বাসের ‘এফ-১’ ও ‘এফ-২’ নম্বর আসনে বসা ওই দম্পতিকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নারী সদস্যের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে সারমিন খানমের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো অ্যাংলেটের ভেতর থেকে ৩৯টি পলিপ্যাকেটে রাখা ৭ হাজার ৮০০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক কারবারে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। 

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মূলত তল্লাশি এড়াতে এবং সন্দেহমুক্ত থাকতেই এই দম্পতি মাত্র দেড় মাসের কোলের শিশুকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাঃ শামসুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। 

ডিএনসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ইয়াবার এই বড় চালানের সঙ্গে অন্য কোনো চক্র বা গডফাদার জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।