ভাঙ্গায় কুমার নদে দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ: উৎসবের আমেজে মাতল হাজারো মানুষ

ইমরান মুন্সী (ভাঙ্গা) ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৪৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ভাঙ্গায় কুমার নদে দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ: উৎসবের আমেজে মাতল হাজারো মানুষ

ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর হাজারো মানুষের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল কুমার নদের দুই পাড়। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। গ্রামবাংলার চিরায়ত এ লোকজ উৎসবকে ঘিরে পুরো এলাকা রূপ নিয়েছিল এক মহা মিলনমেলায়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙ্গা বাজারসংলগ্ন কুমার নদে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সুসজ্জিত ২৬টি নৌকা। প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে দুই দিন আগে থেকেই নদীর পাড়ে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি তৎপর ছিল ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল।

দুপুর গড়াতেই কুমার নদের দুই পাড়, সংলগ্ন সেতু ও আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মাঝি-মাল্লাদের ছন্দময় বৈঠার টান আর দ্রুতগতিতে নৌকাগুলোর ছুটে চলার রোমাঞ্চকর দৃশ্য দর্শকদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও আনন্দের সৃষ্টি করে। এদিকে বাইচকে কেন্দ্র করে নদের পাড়ে বসেছিল জমজমাট গ্রামীণ মেলা, যা উৎসবের আবহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব নৌকার মাঝিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। নৌকাবাইচ কেবল একটি প্রাচীন জলক্রীড়া নয়, এটি বাঙালির শিকড় ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রেখে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের নির্মল বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই।”

আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যেমন লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ হবে, তেমনি নতুন প্রজন্মও পরিচিত হতে পারবে বাঙালির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।