ফরিদপুরে জমি বিরোধের জেরে বাড়ি ঢুকে স্কুলশিক্ষককে গুলি, ভাঙচুর

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে জমি বিরোধের জেরে বাড়ি ঢুকে স্কুলশিক্ষককে গুলি, ভাঙচুর

ফরিদপুরের সদরপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাতে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। আহত মোস্তাফিজুর রহমান স্থানীয় সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে এবং সদরপুর উপজেলার শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরেন শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হেলমেট পরা ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে। তাঁদের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকেই মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করে। গুলিতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে দ্রুত সটকে পড়ে।

আহতের বোন মোহসীনা আক্তার জানান, হামলাকারীরা স্কুল থেকেই তাঁর ভাইকে অনুসরণ করছিল। জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমানের অভিযোগ, চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জেরেই আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে সরাসরি তাঁর ছেলেকে গুলি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল মইদ বলেন, “গুলি করার অভিযোগটি সত্য নয়। আমাদের দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে তিনি ব্যথা পেয়েছেন। তাছাড়া তাঁর পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল।”

এদিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত ‘ইনজুরি নোট’ অনুযায়ী, শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে এবং হাঁটুর নিচের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া তাঁর ডান কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনও অবগত নয়। থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।