বর্ণাঢ্য আয়োজনে নোবিপ্রবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

মেহেদী হাসান ইমন, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
বর্ণাঢ্য আয়োজনে নোবিপ্রবিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে এতে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান। 

জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিমূলক তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ নবীনদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও ত্যাগের ফলেই তোমরা আজ এ আঙিনায় আসার সুযোগ পেয়েছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এখান থেকেই ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানো এবং দেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হয়। সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ তোমাদেরই গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যার প্রতিফলন আমরা এবারের বাজেটেও দেখেছি।” শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শিক্ষকতাকে কেবল শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে হবে। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে গবেষণার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের সাদামাটা জীবনযাপন এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে পাথেয় করে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান (এমপি) বলেন, “আজকের এই আনন্দঘন দিনে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি প্রতিকূল পরিবেশেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সমুদ্রের অবারিত সম্পদ আহরণ ও গবেষণার স্বার্থে নোয়াখালীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’ গড়ে তোলা হবে। এছাড়া সোনাপুরের দক্ষিণে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০ একর জমি অধিগ্রহণ, ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং সোনাপুর রেললাইন সম্প্রসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নতুন রেলস্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “নোবিপ্রবি গবেষণায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়েও ভালো অবস্থান তৈরি করছে। সরকার শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরির পেছনে না ছুটিয়ে চাকরি দেওয়ার মতো যোগ্য ‘উদ্যোক্তা’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।” তিনি জানান, তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী ধারণাকে উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ৮০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউজিসির তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী বড় পরিসরে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী নবীনদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্র নয়, এটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার সর্বোত্তম সোপান। নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, “একাডেমিক ভবন-৩ এর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। পাঁচটি আবাসিক হলে ওয়াই-ফাই সংযোগের কাজ চলছে এবং পুরো ক্যাম্পাসকে এর আওতায় আনা হবে। শিক্ষক সংকট কাটাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নতুন পরিবহন যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও ৪টি নতুন হল নির্মাণে ডিপিপি প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউট ও সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ইসহাক খন্দকার। 

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের নুছরাত শরীফ সাবিহা ও ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগের নজরুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইউসূফ শেখ ও জান্নাতুল ফেরদৌস ইরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।