ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেলেন আযমীসহ তিন বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:১১ এএম
শেয়ার করুন:
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেলেন আযমীসহ তিন বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তা

বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ (পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর) পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত এবং বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা রয়েছেন। 

গত ১ জুলাই (বুধবার) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ৩ মে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ এবং তিন বাহিনীর সদরদপ্তরের মতামত পর্যালোচনা করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগের ও সংশোধিত অবসরের ধরন, অবসরের তারিখ, পদোন্নতি এবং প্রাপ্য আর্থিক সুবিধার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

বাহিনীর ভিত্তিতে কর্মকর্তার সংখ্যা:
সুবিধাপ্রাপ্ত ১৫০ জন কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন:
সেনাবাহিনী: ১১৫ জন
নৌবাহিনী: ২১ জন
বিমানবাহিনী: ১৪ জন

এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

যেসব সুবিধা পাবেন কর্মকর্তারা:
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধিকাংশ কর্মকর্তার পূর্বের বাধ্যতামূলক বা অকাল অবসর বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল ধরে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্যতা অনুযায়ী অনেক কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা সংশোধিত পদের মেয়াদ অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা ও বিধি মোতাবেক অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।

এছাড়া কর্মকর্তাদের বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে:
যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী এককালীন ৩০ লাখ, ৫০ লাখ এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান।
প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি বা বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্লট অথবা ফ্ল্যাট বরাদ্দ।
বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পদায়নের সুযোগ।

কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সংশোধিত বিবরণ:

  •  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী: ২০০৯ সালের ২৪ জুন তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভূতাপেক্ষ ‘মেজর জেনারেল’ এবং ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অবসরের আগে ভূতাপেক্ষ ‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি উভয় পদের বকেয়া বেতন-ভাতা, ১ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পদায়নের সুযোগ পাবেন।
    মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী: ২০০৯ সালের ১২ মার্চ তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট তাঁর স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। ফলে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেজর জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা পাবেন তিনি।
    লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম: ২০০৯ সালের ১২ মার্চ তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩০ জুন তাঁর স্বাভাবিক অবসর কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার বকেয়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।