বোয়ালমারীতে স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও খাতা কারচুপির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

এম এম জামান, বোয়ালমারী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৬ এএম
শেয়ার করুন:
বোয়ালমারীতে স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও খাতা কারচুপির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মহসীন আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও অভিভাবকবৃন্দ।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৬ আগস্ট) নবম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান ক্লাস চলাকালে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নিয়ামুল হাসান পরশের সঙ্গে শিক্ষক মহসীন আলমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার গলা চেপে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে তাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী পরশ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পরশের মা সখিনা খানম আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অন্যদিকে, একই দিন স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের স্বাক্ষরিত আরেকটি পৃথক অভিযোগ ইউএনও কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। সেখানে শিক্ষক মহসীন আলমের বিরুদ্ধে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি, মানসিক হেনস্তা এবং নিজের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক পরীক্ষার আগের দিন নিজ কোচিং সেন্টারে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেন। এছাড়া তাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষার খাতায় নম্বর বিকৃত করা, বানান ভুল ধরা বা কাটাকাটি করে ফলাফল খারাপ করে দেওয়ার মতো অনিয়মে যুক্ত তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. মহসীন আলম বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, "পদার্থবিজ্ঞানের খাতা মূল্যায়নের সময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে আমার হাত থেকে খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারার জন্য হাত তোলে। তখন আমি তাকে চড় মেরে ক্লাস থেকে বের করে দিই।"

এ বিষয়ে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ মোল্যা বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া খাতা মূল্যায়নে কোনো অসঙ্গতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে অন্য একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে খাতাটি পুনঃমূল্যায়ন করানো হচ্ছে।"

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, "অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক মহসীন আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও পরীক্ষায় নম্বর জালিয়াতি, নীতিবহির্ভূত আচরণ এবং প্রাইভেট না পড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের বহু অভিযোগ রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।