ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি ও স্বর্ণালংকার চুরি

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি ও স্বর্ণালংকার চুরি

ফরিদপুর শহরের পুরাতন কালীবাড়ী ২ নম্বর উত্তর কালীবাড়ী মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরের একাধিক দরজার তালা কেটে একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও রূপাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ মন্দিরটিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও মন্দির সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে কালীমাতাকে শয়ন দিয়ে মন্দিরের কাঠের দরজা, লোহার শাটার ও বাইরের কেঁচি গেটে তালা লাগিয়ে বাড়ি চলে যান সেবায়েত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী (পানু)। পরদিন রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি পুনরায় মন্দিরে পূজা দিতে এসে দেখতে পান সবকটি দরজার তালা কাটা এবং ভেতরে সবকিছু খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। 

ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, বেদিতে থাকা কষ্টিপাথরের মূল কালীমূর্তিটি নেই। এছাড়া মূর্তির গায়ে থাকা আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার, বেদির পিতলের ছোট ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গের সঙ্গে থাকা প্রায় ৮-১০ ভরি ওজনের রূপার সাপ চুরি হয়ে গেছে। 

পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কালীমূর্তির সঙ্গে থাকা মহাদেবের অংশ এবং কষ্টিপাথরের কালীমাতার পায়ের পাতার ভাঙা অংশটি উদ্ধার করা হয়। তবে চুরি যাওয়া মূল মূর্তি ও অলংকারের কোনো সন্ধান মেলেনি। মন্দির কর্তৃপক্ষের ধারণা, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার ভোরের কোনো এক সময়ে চোরচক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। 

ঘটনার পরপরই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মো. নিয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া রহস্য উদঘাটন ও আলামত সংগ্রহে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল কাজ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্দিরের চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।