আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজবে সড়ক থেকে তোলা ইট ফেরত দিলেন অভিযুক্তরা

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৫১ পিএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজবে সড়ক থেকে তোলা ইট ফেরত দিলেন অভিযুক্তরা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনের গুজব ছড়িয়ে রাতের আঁধারে গ্রামীণ সড়কের ইট তুলে নেওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শেষ পর্যন্ত স্বস্থানে ইট ফেরত দিয়েছে অভিযুক্তরা। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের কঠোর বার্তার মুখে টনক নড়ে তাদের। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সড়কের ইট সড়কে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত গোলাম কুদ্দুসের ভাতিজা মাসুদ মোল্যাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তুলে নেওয়া ইটগুলো ফেলে রেখে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামের আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশের ইট তুলে নেওয়া হয়। নদীভাঙনের আশঙ্কার ভুয়ো অজুহাত তুলে ইটগুলো খুলে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এর ফলে ব্যস্ততম সড়কটি মুহূর্তেই খানাখন্দ ও কাদামাটিতে পরিণত হয়। এতে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামের কয়েক শত মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনা নিয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে চারদিকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ওই দিনই আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার মন্ডল ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তদের বাড়ি পরিদর্শন করে ইট মজুত রাখার সত্যতা পান। পরে তিনি আগামী তিন দিনের মধ্যে ইটগুলো পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। 

একই দিন ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে বাবুল শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান ও গণমাধ্যমের ধারাবাহিক তৎপরতার মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করে নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কের ইট স্বস্থানে ফিরিয়ে দেন অভিযুক্তরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।