বোয়ালমারীতে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নওমুসলিম বিধবার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এম এম জামান, বোয়ালমারী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
Mar 12, 2026 - 22:03
Mar 12, 2026 - 22:03
বোয়ালমারীতে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে নওমুসলিম বিধবার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বান্দুগ্রামের বাসিন্দা মোসা. খাদিজা বেগম নামের এক নওমুসলিম বিধবা নারীর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে স্থানীয় সাপ্তাহিক মানব দর্পণ পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম তার তিন নাবালিকা কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে খাদিজা বেগম জানান, তার স্বামী মৃত তৌহিদুল ইসলাম জীবিত থাকাকালে তারা সপরিবারে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিন নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন এবং গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে তার স্বামীর পূর্বপরিচিত ও নিকট প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ কুশারী ওরফে ভোম্বল ঠাকুর তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তি বিক্রির বিষয়ে আইনি জটিলতা সমাধানের কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছ থেকে সব সম্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে নেন। পরবর্তীতে আদালতের খরচের কথা বলে তার বসতভিটার একটি বড় ঘর ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা নিজের জিম্মায় রেখে দেন।

খাদিজা বেগম আরও বলেন, পরে আদালত থেকে নাবালিকাদের সম্পত্তি বিক্রির অনুমতি এনে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। নগদ টাকা না থাকায় তিনি কৃষিজমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে তাকে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে একটি বায়নাপত্র তৈরি করা হয়। সেখানে ৮ লাখ টাকা বায়না উল্লেখ করে তাকে স্বাক্ষর করানো হয়। নিরক্ষর হওয়ায় বিষয়টি না বুঝেই তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে তার হাতে কিছু টাকা দিয়ে ছবি তোলা হলেও নিরাপত্তার অজুহাতে সেই টাকাও অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের কাছে রেখে দেন এবং আর ফেরত দেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার সব সম্পত্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম আরও জানান, তিনি সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নোটিশ হাতে পাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি নাকি তার স্বামীর রেখে যাওয়া সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির দেখাশোনার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমমোক্তার নিযুক্ত করেছেন এবং মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টাকায় সব সম্পত্তি তার কাছে বিক্রি করেছেন। যার বায়নাস্বরূপ ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ টাকা তিনি গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তার স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে এসব করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম তার নিজের এবং নাবালিকা সন্তানদের সম্পত্তি রক্ষায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow