আলফাডাঙ্গায় ভাতিজা খুনের আড়াই মাসের মাথায় চাচাকেও কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৬ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় ভাতিজা খুনের আড়াই মাসের মাথায় চাচাকেও কুপিয়ে হত্যা, আহত ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে ভাতিজা হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় এবার চাচা রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবিকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় রবিউলের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত রবিউল ইসলাম আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি পাশেই গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী সদর বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। 

এ হামলায় আহতরা হলেন—মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে মোক্তার বিশ্বাস ও হৃদয় শেখের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে কাশিয়ানী বাজারের চায়ের দোকান বন্ধ করে আরও তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়ি বড়ভাগে ফিরছিলেন রবিউল ইসলাম। পথে মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে ঘটনাস্থলেই রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয় এবং তাঁর সঙ্গীরা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এর আগে, চলতি বছরের ২৬ জুন সন্ধ্যায় বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামে রবিউল ইসলামের ভাতিজা ও কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন শেখকে (২৪) একই ধরনের কায়দায় মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলফাডাঙ্গার বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত চার বছরে এ বিরোধের জেরে একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। সুমন হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামি সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন। এরপর থেকেই এলাকায় নতুন করে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জামিনে মুক্ত ব্যক্তিরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সুমন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। আগের হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিকল্পিতভাবে রবিউল ইসলামকেও প্রাণ হারাতে হলো।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে, মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে একই পরিবারের চাচা-ভাতিজা খুন হওয়ার ঘটনায় বড়ভাগ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।