পোলট্রি মুরগির মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: তিন দেশের ওপর গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ আগস্ট, ২০২৬ ২:৩৭ পিএম
শেয়ার করুন:
পোলট্রি মুরগির মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: তিন দেশের ওপর গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের 'রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজ' (আরভিসি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী— বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বাজার ও খামার থেকে সংগৃহীত মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ বৈশ্বিক নিরাপদ সীমার চেয়ে উদ্বেগজনকভাবে বেশি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করেছে। অর্থায়ন করেছে 'ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড'-এর আওতাধীন 'ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব'।

গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন পোলট্রি খামার ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানদণ্ড অনুসরণ করে সিঙ্গাপুরের 'নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি'-তে নমুনাগুলোর পরীক্ষা চালানো হয়। সেখানে মোট ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি যাচাই করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, কিছু বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত মাংসের ৩.৭ থেকে ৮.৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। অথচ একই সময়কালে (২০২১-২২) ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই উপস্থিতির হার ছিল গড়ে মাত্র ০.০৫ থেকে ০.০৯ শতাংশ।

উৎস ও ঝুঁকি
মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়মবহির্ভূত ওষুধের ব্যবহারকেই এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, খামারিরা মুরগি বিক্রির বা জবাই করার ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করায় মাংসে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি মুরগির খাবার ও পানীয় জলের মাধ্যমেও এই দূষণ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

(উল্লেখ্য, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হলো বিশেষ এক ধরনের ওষুধ বা রাসায়নিক উপাদান, যা ক্ষতিকারক অণুজীব বা জীবাণুর বংশবৃদ্ধি রোধ কিংবা তাদের ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। তবে খাদ্যের মাধ্যমে মানবদেহে এর অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।)*

বিশেষজ্ঞদের মতামত
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান গবেষক অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, “এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এশিয়া মহাদেশে এতদিন একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ পরিমাপের নির্দিষ্ট কোনো ডেটা বা তথ্য ছিল না। আশা করা যায়, এই ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের সঠিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।