নিরাপদে দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন

অনলাইন ডেস্কঃ
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৭ এএম
শেয়ার করুন:
নিরাপদে দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন

দেশে বিঘ্নহীন অবস্থান ও নিরাপদ দেশত্যাগের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন নেওয়া সিদ্ধান্তের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলেও, এ পদে আসার পূর্ববর্তী কোনো কেলেঙ্কারি বা মামলার দায়ভার নেবে না বিএনপি।

সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের পরই তিনি গণমাধ্যমকে জানান, শারীরিক সুস্থতা কিছুটা ফিরে পেলেই আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে পাড়ি জমাবেন।

সমঝোতা ও বিএনপির অবস্থান
বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, সাবেক এই রাষ্ট্রপতির দ্রুত দেশত্যাগ করাই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও তাঁর নিরাপত্তার জন্য সুবিধাজনক। দেশে অবস্থানকালে তিনি যেন অবাধে চলাফেরা করতে পারেন—এমন আশ্বাসের পরেই তিনি পদে ইস্তফা দেন। 

তবে বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, পদে থাকাকালীন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা পেলেও, তাঁর অতীত বিতর্ক যেমন—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালীন ভূমিকা, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব এবং বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের কোনো দায় বিএনপি নেবে না। 

ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ২০১৭ সালে সাহাবুদ্দিন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হন, যা এস আলম গ্রুপের ব্যাংক দখলের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত থাকলেও কৌশলগত কারণে এটিকে 'গুরুতর অসুস্থতা' হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এর বাইরে ভিন্ন কোনো কারণ নেই।”

বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতারাও এই সমঝোতার বিষয়টি জানতেন। জামায়াতের এক নেতা জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের চাপ ছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি ‘সম্মানজনক বিদায়’ দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হয়।

পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যদিক আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে যে সুরক্ষা দেয় তা বজায় থাকবে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা দায়ের হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আপাতত বঙ্গভবন ছেড়ে গুলশান-১ নম্বরের ‘গ্রিন ভিলা’-র একটি ফ্ল্যাটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির একান্ত সহকারী সচিবের মতে, রবি বা সোমবারের মধ্যেই তিনি নতুন বাসায় স্থানান্তর হতে পারেন। পদত্যাগের পর তিনি ভিভিআইপি প্রটোকল সুবিধা পেলেও, এনসিপিসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিবাদের মুখে তাঁর নিরাপত্তা কিছুটা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।