অবশেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর করল জাতীয় নাগরিক পার্টি
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষর করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা ছয়টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এনসিপির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এদিন যমুনায় উপস্থিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে দলের পক্ষে সনদে সই করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এনসিপির প্রতিনিধি দলে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন ও জহিরুল ইসলাম মূসা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষর শেষে যমুনা থেকে বেরিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছাড়াই আমরা এই সনদে স্বাক্ষর করেছি। যদিও আমরা সবার শেষে স্বাক্ষর করলাম, কিন্তু এই সনদ বাস্তবায়নে আমাদের তৎপরতা ছিল সর্বোচ্চ এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।"
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, "নতুন বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এই দলিল প্রতিটি পদক্ষেপে দিকনির্দেশনা দেবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে।"
উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দীর্ঘ সাত মাস ধরে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ চূড়ান্ত করে। সেদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৪টি দল সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি তখন সই করা থেকে বিরত ছিল।
সে সময় এনসিপি তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ করা এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি গণভোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা। এনসিপি জানিয়েছিল, জনগণ গণভোটে রায় দিলে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ কার্যকর থাকবে না।
অবশেষে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেয়। জনগণের এই রায়ের পর এবং নিজেদের দাবি পূরণ হওয়ায় এনসিপি অবশেষে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করল।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ