‘ভাত চুরির’ অপবাদে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, আসামি খুবির ৪ শিক্ষার্থী

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৭ এএম
শেয়ার করুন:
‘ভাত চুরির’ অপবাদে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা, আসামি খুবির ৪ শিক্ষার্থী

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন একটি মেসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে মো. আজমুল হোসেন নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহতের পিতা মো. কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনার হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুবির খানজাহান আলী হলের বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে ভাড়া থাকতেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মেসে মিল না দিয়েও খাবার খেয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আজমুলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে গিয়ে মাথার চুল কেটে দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, "শুক্রবার রাতে মেস থেকে ফোন দিয়ে আমার ছেলের বিরুদ্ধে ভাত, পোশাক ও টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। বিষয়টি মিটমাট করার জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। আমি খুলনায় আসার কথা জানালেও পৌঁছানোর আগেই ওরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।"

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, "মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পোশাক ব্যবহারসহ নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই কিছু বিরোধ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।