উৎসবহীন জন্মদিনে পপির জীবনবোধ

অনলাইন ডেস্কঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:০৯ পিএম
শেয়ার করুন:
উৎসবহীন জন্মদিনে পপির জীবনবোধ

একসময় যাঁর জন্মদিন মানেই ছিল ঢালিউডের অন্যরকম উৎসব—সকাল থেকে ভক্তদের শুভেচ্ছার বন্যা, ফুলেল শুভেচ্ছা, কেক কাটা আর শুটিং সেটে সহকর্মীদের আনন্দ আয়োজন; সেই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির এবারের জন্মদিন কাটছে একেবারেই নীরবে, জৌলুস ছাড়া। রূপালি পর্দা থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে গুটিয়ে রাখা এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর ভাষায়, দিনটি এখন তাঁর কাছে ‘একদম সাদামাটা’। 

উৎসবে ভাটা পড়লেও দিনটির উদযাপনে এসেছে আধ্যাত্মিক আবহ। পপি জানান, আড়ম্বরপূর্ণ উদযাপনের বদলে জন্মদিন উপলক্ষে কয়েকটি এতিমখানায় কোরআন খতম ও দোয়ার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। উৎসবের চাকচিক্য নয়, বরং প্রার্থনা, পরিবার এবং ফেলে আসা জীবনের হিসাব-নিকাশ মিলিয়েই এখন তাঁর দিন কাটে।

জীবনের হিসাব ও তিক্ত উপলব্ধি  
জীবনের এই হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে এক গভীর ও তিক্ত উপলব্ধির মুখোমুখি হয়েছেন পপি। তাঁর মতে, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা জরুরি, তবে নিজের ভিত্তি শক্ত না করে সবকিছু উজাড় করে দেওয়া কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ ত্যাগের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী বলেন, জীবনের একটি বড় সময় তিনি ভেবেছিলেন পরিবারের সবাই তাঁর আপন, কিন্তু কঠিন সময়ে এসে উপলব্ধি করেছেন—প্রকৃতপক্ষে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউই নেই।

তারকাখ্যাতির শিখর থেকে হঠাৎ আড়ালে
১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন পপি। এরপর একের পর এক সুপারহিট বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিয়ে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ঘরে তোলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তবে ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়ে হঠাৎ করেই বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। 

প্রায় পাঁচ বছর গণমাধ্যমের আড়ালে থাকার পর প্রকাশ্যে আসে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য। জানা যায়, পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আদনান উদ্দিন কামালের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি এবং এই দম্পতির একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বর্তমানে সংসার আর সন্তানকে ঘিরেই তাঁর দৈনন্দিন জীবন আবর্তিত হচ্ছে।

পারিবারিক দ্বন্দ্বে নীরবতা ভাঙন 
পপির এই দীর্ঘ নীরবতা ভাঙে মূলত পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে। খুলনায় বাবার সম্পত্তি নিয়ে মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ তুলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর ছোট বোন। 

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন পপি। তাঁর দাবি, নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়েই তিনি বাবা ও চাচার কাছ থেকে সম্পত্তি কিনেছিলেন। উল্টো পরিবারের সদস্যরা তাঁর সম্পত্তি ভোগদখল করছেন এবং তাঁর উপার্জনের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পপি বলেছিলেন, নিজের ক্যারিয়ারের সমস্ত পারিশ্রমিক দিয়ে যাদের মানুষ করেছেন, শেষ পর্যন্ত তারাই তাঁর সঙ্গে বেইমানি করেছে।

সিনেমা নিয়ে বিতর্ক ও প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত 
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পপির একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের খণ্ডিতাংশ ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে দাবি করা হয়, পপি চলচ্চিত্র অভিনয়কে ‘পাপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাবেক সহকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। 

তবে দ্রুতই এই বিতর্কের অবসান ঘটান পপি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমা তাঁর পেশা ও দ্বিতীয় পরিবার; এখান থেকেই তিনি রুটিরুজি, যশ, সম্মান ও মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। ফলে চলচ্চিত্রকে হেয় করার প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি তিনি জানান, এখনই অভিনয়ে না ফিরলেও ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র প্রযোজনার মাধ্যমে রূপালি পর্দার সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

নতুন অধ্যায়ে পপির চাওয়া  
অতীতের ঝলমলে তারকা জীবন, তুমুল জনপ্রিয়তা আর স্বীকৃতির বিপরীতে পপির বর্তমান দাঁড়িয়ে আছে সংসার, সন্তান আর পারিবারিক নানা টানাপোড়েনের মাঝে। জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা এই অভিনেত্রীর কাছে এখন আর তারকাখ্যাতি কিংবা লাইমলাইটের মোহ নেই। জীবনের এই পরিণত অধ্যায়ে পপির একমাত্র চাওয়া—মানসিক শান্তি, সংসার ও সন্তানকে নিয়ে নিজের মতো করে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।