মধুমতির ভয়াল গ্রাসে আলফাডাঙ্গার দুই গ্রাম: হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা, ভাঙন রোধে মানববন্ধন

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:৪১ পিএম
শেয়ার করুন:
মধুমতির ভয়াল গ্রাসে আলফাডাঙ্গার দুই গ্রাম: হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা, ভাঙন রোধে মানববন্ধন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর আগ্রাসী ভাঙনে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামের বাসিন্দারা। নদীর তীব্র ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে জনপদ। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সরকারি স্থাপনা এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধ ও সহায়-সম্বল রক্ষার দাবিতে নদীপাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে ভাঙনের দুর্যোগ থেকে নিজেদের জানমাল, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মধুমতির ভাঙন যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে, তাতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বর্তমানে নদী থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে অবস্থান করছে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাত্র ৪০ মিটার দূরত্বে রয়েছে আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা। ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এই দুটি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

এ ছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোখছেদ মোল্লা এতিমখানা, স্থানীয় মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, গোরস্থান ও পোস্ট অফিস। নদীপাড়ের শত শত পরিবার এখন ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।

মানববন্ধনে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে স্থানীয় যুবক আল আমিন মিয়া ও রবিউল ইসলাম রাকিব বলেন, "মধুমতি নদীর ভাঙন এখন আমাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখের সামনে একে একে ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসবে।"

চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, "বিদ্যালয়টির খুব কাছেই নদী চলে এসেছে। প্রতিষ্ঠান ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।" একই উদ্বেগ প্রকাশ করে আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ আবদুর রব ফারুকী দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, "মধুমতি নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বর্তমানে নদীতে পানির তীব্র চাপ রয়েছে। পানি কিছুটা কমলে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিবছরই আশ্বাস মিললেও স্থায়ী সমাধান মেলে না। এবারের ভাঙন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র আকার ধারণ করায় পানি কমার অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।