সালথায় ওয়ারেন্টভুক্ত নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এএসআইয়ের বিরুদ্ধে

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন:
সালথায় ওয়ারেন্টভুক্ত নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এএসআইয়ের বিরুদ্ধে

ফরিদপুরের সালথায় এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ও নতুন মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মুকুল, তিনি সালথা থানায় কর্মরত। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ৯২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ৮ সেপ্টেম্বর সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া স্বরপদিয়া গ্রামে। 

ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই দিন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জোসনা বেগমের বাড়িতে অভিযানে যান এএসআই মুকুলসহ পুলিশ সদস্যরা। ওই সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে এএসআই মুকুল উপস্থিত নারীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

ভুক্তভোগী জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, "ঘটনাস্থলে বসেই এএসআই মুকুল মুঠোফোনে সালথা থানার ওসির সঙ্গে কথা বলার ভান করেন। এরপর তিনি আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আমাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা এবং অন্য মামলায় ফাঁসিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে দ্রুত ৯২ হাজার টাকা জোগাড় করে এএসআই মুকুলের হাতে তুলে দিই।"

অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এএসআই মুকুল। তিনি দাবি করেন, "গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আসামির বাড়িতে গিয়েছিলাম। তবে আসামিকে না পেয়ে আমরা চলে আসি। টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।"

তবে একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে এএসআই মুকুলের ভিন্ন রূপ প্রকাশ পায়। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে আসামিপক্ষের কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা নেওয়ার কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, ওই রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়—‘কেউ যদি বিষয়টি নিয়ে জানতে চায়, তবে বলবেন পুলিশ আসামিকে বাড়িতে পায়নি।’

এ বিষয়ে সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না, মাত্রই জানলাম। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আদায়ের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জোসনা বেগম ও তার পরিবার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।