লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের বয়কট হুমকি নিয়ে মুখ খুললেন বাবর

অনলাইন ডেস্কঃ
৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৮ পিএম
শেয়ার করুন:
লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের বয়কট হুমকি নিয়ে মুখ খুললেন বাবর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে লর্ডস টেস্ট বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)—সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম। তার দাবি, ম্যাচ বয়কটের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি কিংবা দলের খেলোয়াড়েরা কিছুই জানতেন না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
লর্ডসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের মধ্যাহ্নভোজের (লাঞ্চ) বিরতিতে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে স্বাগতিক দেশের সম্প্রচারকারী চ্যানেল ‘স্কাই স্পোর্টস’। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া সেই ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন ইমরান খানের দুই ছেলে—সুলেমান খান ও কাসিম খান। সেখানে তারা পাকিস্তানে কারাবন্দি বাবার বর্তমান স্বাস্থ্য ও উন্নত চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম *দ্য গার্ডিয়ান*-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারটি প্রচারের আগেই তীব্র আপত্তি জানায় পিসিবি। এমনকি এটি সম্প্রচার করা হলে বিরতির পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা আর মাঠে নামবেন না বলেও ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয় এবং পাকিস্তান দলও যথাসময়ে মাঠে নেমে খেলা চালিয়ে যায়।

যা বললেন বাবর আজম:
লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বাবর আজমকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। ম্যাচ বয়কটের হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, “না, না। এমন কোনো কথা আমি শুনিনি।” 

ড্রেসিংরুমে ম্যাচ বয়কট নিয়ে খেলোয়াড়দের মাঝে কোনো আলোচনা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি পুনরায় স্পষ্ট করে বলেন, “না, এ বিষয়ে আমি একেবারেই কিছু শুনিনি।”

অবহিত ছিলেন না দলের খেলোয়াড়েরা:
বাবরের বক্তব্যের আগে পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদও একই দাবি করেছিলেন। তার ভাষ্যমতে, সাক্ষাৎকারটি যখন টিভিতে প্রচার করা হচ্ছিল, তখন ক্রিকেটাররা ড্রেসিংরুমে খাবার খাচ্ছিলেন এবং তারা কেউ এটি দেখেননি। 

তবে বাবর কিংবা সরফরাজের বক্তব্য থেকে পিসিবির পক্ষ থেকে বয়কটের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করা হয়নি; বরং তাদের বক্তব্যে এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, বোর্ড পর্যায়ের এই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে খেলোয়াড়দের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

মাঠের বাইরের এমন নাটকীয়তার মধ্যেও নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে লর্ডস টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।