সয়াবিন তেলে ৬ ধরনের প্লাস্টিক পলিমার (তালিকা)

অনলাইন ডেস্কঃ
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৫ এএম
শেয়ার করুন:
সয়াবিন তেলে ৬ ধরনের প্লাস্টিক পলিমার (তালিকা)

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা তেলের নমুনা পরীক্ষা করে মোট ৬ ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, সবকটি নমুনাতেই কোনো না কোনো ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে।

প্রধান তথ্যসমূহ:
গড় পরিমাণ: প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে প্রায় ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে।
ধরন ও আকৃতি: পাওয়া যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮২.৫ শতাংশই তন্তু বা ফাইবার আকৃতির।
তুলনামূলক হার: ব্র্যান্ডের বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা বা নন-ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে।

সয়াবিন তেলে শনাক্ত হওয়া ৬টি প্লাস্টিক পলিমার:

১. লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (LDPE): সাধারণত প্লাস্টিকের মোড়ক ও প্যাকেজিং সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। প্যাকেজিং উপকরণ থেকে এগুলো তেলে মিশতে পারে বলে ধারণা গবেষকদের।
২. হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (HDPE): ড্রাম, ক্যান, প্লাস্টিকের বোতল ও সংরক্ষণ পাত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। তেল পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় এই পলিমার তেলে প্রবেশ করতে পারে।
৩. পলিপ্রোপিলিন (PP): খাবারের পাত্র, ঢাকনা ও সংযোগ পাইপে বহুল ব্যবহৃত এই প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা তেল পরিশোধন ও পরিবহনের সময় যুক্ত হতে পারে।
৪. পলিইথিলিন টেরেফথালেট (PET): পানীয় ও ভোজ্যতেলের স্বচ্ছ বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। সংগৃহীত বোতলজাত তেলগুলোতে এই পলিমারের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
৫. পলিইউরেথেন (PU): কারখানার ফিল্টার, সিলিং ও যন্ত্রাংশের কোটিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভোজ্যতেলে এই পলিমারের উপস্থিতি এবারই প্রথম শনাক্ত হলো।
৬. নাইলন / পলিআমাইড (Nylon): শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি, ফিল্টার ও দড়িতে এটি ব্যবহৃত হয়। **ভোজ্যতেলে নাইলনের উপস্থিতিও প্রথমবার শনাক্তের দাবি গবেষকদের।

কারণ ও প্রকাশনা
গবেষকদের মতে, সয়াবিন তেল উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্যাকেজিংয়ের যেকোনো ধাপে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ফিল্টার বা প্যাকেজিং উপাদান থেকে এসব প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা তেলে মিশতে পারে।

গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী *জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস*-এ প্রকাশিত হয়েছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সুপারিশ
খাবারের মাধ্যমে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলেও তা সরাসরি মানুষের শরীরে সুনির্দিষ্ট কোনো রোগের সৃষ্টি করছে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জানতে আরও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন গবেষকেরা। 

ভোজ্যতেলে প্লাস্টিক কণার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে খাদ্য উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার এবং বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জোর সুপারিশ করেছেন তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।