সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত, স্বচ্ছতায় অনন্য দুই ইউএনও

নুরুল ইসলাম সদরপুর (ফরিদপুর)প্রতিনিধি :
২৭ জুলাই, ২০২৬ ৯:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
সরকারি অর্থ সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত, স্বচ্ছতায় অনন্য দুই ইউএনও

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অর্থের সঠিক ব্যবহারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার দুই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করে সব ধরনের ব্যয় পরিশোধের পরও উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৮০ হাজার ৫৩৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলায় মোট চারটি খাল পুনঃখননের জন্য ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রায় তিন মাসব্যাপী প্রকল্পের কাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় পরিশোধের পর অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৫ টাকা। প্রকল্প শেষে উদ্বৃত্ত ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সদরপুর উপজেলায় বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮০৪ টাকা। কাজ শেষে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৬২০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের শরিফাবাদ থেকে খারদিয়া হয়ে কুমার নদ পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এবং মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার—মোট ১৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়।

সদরপুর উপজেলায় লোহারটেক ব্রিজ থেকে শ্রীরামদী বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং দড়িকৃষ্ণপুর কাটাখাল ব্রিজ থেকে ভুবনেশ্বর নদ অভিমুখী সাড়ে ৪ কিলোমিটার—মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দুই উপজেলা মিলিয়ে সাড়ে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের মান বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। ফলে প্রকল্প শেষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মানের প্রশংসা করেন। ভাঙ্গা উপজেলার প্রথম খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দুই উপজেলার প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি যথাসময়ে পরিশোধের পাশাপাশি কোথাও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। প্রকল্পে কোনো ধরনের অপচয় বা অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ শাওন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভুক্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। কাজ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠারই একটি অংশ।”

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশাসনিক সততা ও দায়িত্বশীলতার একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।