আলফাডাঙ্গায় এতিমদের জন্য প্রতি মাসে ১০০ কেজি চাল দেওয়ার ঘোষণা মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়ার

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় এতিমদের জন্য প্রতি মাসে ১০০ কেজি চাল দেওয়ার ঘোষণা মরিশাস প্রবাসী আকাশ মিয়ার

মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করাই যেন তাঁর জীবনের মূল অঙ্গীকার। প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির অসহায় ও এতিম মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মরিশাসের ‘ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেড’-এর পরিচালক আকাশ মিয়া। 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ‘উত্তর মালা বাইতুর রাসুল (সা.) ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে অধ্যয়নরত এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতি মাসে নিয়মিত ১০০ কেজি করে চাল প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি এই মহতী উদ্যোগের কথা জানান। তাঁর এই ঘোষণায় মাদ্রাসার শিক্ষক- শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক আনন্দ ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

প্রবাস থেকে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, *“এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মহান আল্লাহ আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তা দিয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছি মাত্র। ইনশাআল্লাহ, লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খাদ্য সহায়তা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সমাজের প্রতিটি বিত্তবান ব্যক্তি যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তবে সমাজ থেকে দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”*

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মরিশাসে কর্মরত থাকলেও জন্মভূমির প্রতি আকাশ মিয়ার ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা এতটুকু কমেনি। প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর উন্নয়নে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। ব্যক্তিগত প্রচার-প্রচারণার চেয়ে নিরবে মানবসেবা করাকেই তিনি প্রাধান্য দেন।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের বিপুলসংখ্যক এতিম শিক্ষার্থীর খাদ্যের সংস্থান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আকাশ মিয়ার প্রতি মাসে ১০০ কেজি চালের এই ধারাবাহিক সহায়তা মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্থ ও খাদ্য সহায়তার যোগান দেবে।

শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসে থেকেও নিজ এলাকার এতিম শিশুদের কথা এভাবে চিন্তা করা সত্যিই অনুকরণীয়। তাঁরা সমাজসেবক আকাশ মিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং তাঁর কল্যাণমূলক কাজের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সম্পদের চেয়ে ব্যবহারের মানসিকতাই যে প্রকৃত মহত্ত্ব—প্রবাসী আকাশ মিয়া তা আরও একবার প্রমাণ করলেন। তাঁর এই উদ্যোগে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্য সামর্থ্যবানদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।