এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। তবে প্রকল্পের মূল সহায়তার চেয়ে এর প্রশাসনিক ও পরামর্শক খাতের ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকার অনুদান বিতরণের জন্য এই প্রকল্পে পরামর্শক ও প্রশাসনিক খরচ ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকারও বেশি।
আজ রোববার (৫ জুলাই) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্পের বিবরণ ও বাজেট
‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান (ইন্টিগ্রেট)’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মোট বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) অর্থায়নে ১ বছর ৯ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পটি মূলত খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। আজ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এটি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
বাজেটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্থাৎ ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরাসরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছাবে। এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ২৭০ জন নারী ও ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুদান দেওয়া হবে। বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয় হবে পরামর্শক ফি, কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা, ভ্রমণ ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে।
ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য খাতসমূহ:
প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অনুদান বিতরণ ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ৪৭৩ জন দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এছাড়া অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে:
বৈদেশিক ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণ: ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা
অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ: ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা
প্রকল্প ব্যবস্থাপনা চার্জ: ১০ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা
অফিস ভাড়া: ৩ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা
এছাড়া আইটি সামগ্রী ও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ক্রয়, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং ইউটিলিটি বিলসহ অন্যান্য পরিচালনা খাতে বাকি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয়
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাস্তুচ্যুত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঠিক কী উপায়ে বা কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হবে, তার কোনো স্বচ্ছ গাইডলাইন বা রূপরেখা এই প্রকল্পে নেই। এছাড়া কেনাকাটার পরিকল্পনায় ‘পিপিএ-২০০৬’ এবং ‘পিপিআর-২০০৮’ নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগও উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় এর সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের সিংহভাগ অর্থ যদি পরামর্শক ও প্রশাসনিক কাজেই ব্যয় হয়, তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আশা করা কঠিন।
পরিকল্পনা কমিশন ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চ পরামর্শক ফি এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয়ের খাতগুলো তাঁরা যাচাই-বাছাই করেছেন এবং এসব ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এটি একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হওয়ায় দাতা সংস্থা জিআইজেডের শর্ত ও প্রস্তাবনা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। দাতা সংস্থার শর্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে এবং এই প্রস্তাবনাটি জিআইজেড নিজেই তৈরি করে পাঠিয়েছে।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
রাজবাড়ী | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
ঢালিউড | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
পিরোজপুর | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।