৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জামায়াতের

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ জুন, ২০২৬ ৫:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জামায়াতের

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিকল্প বা ছায়া বাজেট পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে দলটি, যা দেশের জিডিপির ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন।

বাজেটের মূল লক্ষ্য ও দর্শন
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। বাজেট প্রস্তাবনায় শিক্ষা, সুশাসন এবং কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বাজেট বক্তৃতায় এমপি সাইফুল ইসলাম খান মিলন বলেন, “আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো ২০৪৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে দুই ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। আমরা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং ঈমান, ইনসাফ ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে চাই।”

খাতওয়ারি বরাদ্দের চিত্র
প্রস্তাবিত বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বরাদ্দের রূপরেখা নিম্নরূপ:
জনপ্রশাসন: ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা (২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ)।
ঋণের সুদ পরিশোধ: ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ)।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি: ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা (১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ)।
অন্যান্য: পরিবহন ও যোগাযোগ (৬৫,৩৪০ কোটি), কৃষি (৫১,৬৭০ কোটি), সামাজিক নিরাপত্তা (৪৮,১৫০ কোটি), স্বাস্থ্য (৪৫,২৪০ কোটি) এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (৪৫,২২০ কোটি টাকা)।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা ফেরত আনার প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে জামায়াত। এছাড়া, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং এনবিআর ও দুদক পুনর্গঠনের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

কর ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রস্তাব
করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে টিআইএনধারী বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিতে ন্যূনতম করযোগ্য আয়ের সীমা বর্তমান থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী বছরে ৫ লাখে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জামায়াতের এই বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনাটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন ধারার সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।