ভাঙ্গায় গৃহবধূকে জোরপূর্বক তালাক ও কোলের শিশু কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ, মেলেনি পুলিশি প্রতিকার

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন:
ভাঙ্গায় গৃহবধূকে জোরপূর্বক তালাক ও কোলের শিশু কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ, মেলেনি পুলিশি প্রতিকার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর করিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর তাঁর ছয় মাসের শিশুকন্যাকে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও নিজের সন্তানকে ফিরে পাননি ভুক্তভোগী মা রুমি আক্তার। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রুমি আক্তারের ওপর তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে চাপ ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি শ্বশুর জাকির, শাশুড়ি রোজি আক্তার ও স্বজন জহির মিলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তাঁর কাছ থেকে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাঁর মাত্র ছয় মাস বয়সী দুধের শিশু রেজয়ানাকে জোর করে কোল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। 

অভিযোগে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে শ্বশুর জাকির বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য। অপর অভিযুক্ত জহিরও পুলিশ সদস্য হিসেবে ঢাকায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। তাঁরা নিজেদের পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে একজন সংবাদকর্মীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সন্তানহারা মা রুমি আক্তার জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগের এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ তাঁর কোলের সন্তানকে উদ্ধার করে দিতে পারেনি। সন্তানকে কাছে না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং মাতৃদুগ্ধপোষ্য নিষ্পাপ শিশুটিকে অনতিবিলম্বে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।