নিহত বেড়ে ৯৫৫, টানেলে আটকা ৯ শতাধিক শ্রমিক

অনলাইন ডেস্কঃ
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
নিহত বেড়ে ৯৫৫, টানেলে আটকা ৯ শতাধিক শ্রমিক

নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫৫ জনে। নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৭২ জনে। এছাড়া নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৯ শতাধিক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

ভয়াবহ এ দুর্যোগের প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোর মুখ ঘন কাদা ও পাথরের স্তূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ‘বেইলি ব্রিজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে এখনো প্রায় ৬০০ মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের নুওয়াকোট জেলা। জেলাটির সড়ক যোগাযোগ নতুন করে চালু হওয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে গতি এসেছে। নুওয়াকোটের বেত্রাবতী গ্রামে একটি বিধ্বস্ত বাড়ি থেকেই ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি। উদ্ধারকারী দলগুলো নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথে আরও মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে।

নিহতদের অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় শত শত মরদেহ গণকবরে দাফন করছে স্থানীয় প্রশাসন। নিখোঁজদের স্বজনদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে পরিচয় শনাক্তের মতো সংবেদনশীল কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেছে। উদ্ধার তৎপরতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে সহায়তা দিচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সৃষ্ট হিমবাহ ধস (Glacial Outburst) থেকেই এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত। হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত নেমে এসে নেপাল-চীন সীমান্ত অঞ্চলে এই প্রলয়ংকরী ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।