থানচিতে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম
শেয়ার করুন:
থানচিতে বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সীমান্তবর্তী ভূদৃশ্যের বনাঞ্চল এবং বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে থানচি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন) এবং রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনস, কিউ-এর অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা ‘আরণ্যক ফাউন্ডেশন’ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী (কো-অর্ডিনেটর) ড. মো. মদিনুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল। প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহার সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ওয়ালিদ হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরীফুল ইসলাম এবং থানচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, "পাহাড়ি বনাঞ্চল কেবল বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলই নয়, এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।" তিনি আরও বলেন, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ সময় তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে সমৃদ্ধ হলেও বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ শিকারের কারণে তা বর্তমানে হুমকির মুখে। এসব ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের বিকল্প জীবন-জীবিকার বিষয়টিকেও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত নিরসনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের চট্টগ্রাম–লুসাই আন্তঃসীমান্ত অঞ্চলে বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে কাজ করছে। 

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।