শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারিতে সরকার

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ আগস্ট, ২০২৬ ১:২২ পিএম
শেয়ার করুন:
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারিতে সরকার

সারাদেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি জারিকৃত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশজুড়ে সচেতনতামূলক নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনোভাবেই নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্র বা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান নির্দেশনাসমূহ:

অনুষ্ঠান পরিচালনায় অনুমতি ও সীমা: কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান বা জনসমাবেশে মাইক কিংবা স্পিকারের মতো উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি পেলেও শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেল এবং সময়সীমা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত হর্ন নিষিদ্ধ: নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী কোনো ধরনের হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রি, পরিবহন বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আবাসিক এলাকায় হর্ন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: আবাসিক এলাকাগুলোতে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনো ধরনের হর্ন বাজানো যাবে না।
নীরব এলাকা ও উৎসব: নীরব এলাকায় (হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া যেকোনো স্থানে পটকা ও আতশবাজির মতো শব্দদূষণকারী কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্মাণকাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা: আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না।
প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কড়াকড়ি: প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী শব্দযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলেই শাস্তির বিধান: ট্রাফিক সার্জেন্ট বা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শব্দদূষণের ঘটনা সরাসরি প্রত্যক্ষ করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তকে শাস্তি ও জরিমানা প্রদান করতে পারবেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই বিধিমালা মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। নতুন আইন বাস্তবায়নে দেশজুড়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।