বদলে যাচ্ছে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি

অনলাইন ডেস্কঃ
৩ জুলাই, ২০২৬ ১:১৭ পিএম
শেয়ার করুন:
বদলে যাচ্ছে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি

বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতের বিকাশকে তরান্বিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দুই দশক পর ২০০৬ সালের ভিসা নীতিমালা সংশোধন করছে সরকার। এর পরিবর্তে যুগোপযোগী ও আধুনিক সুবিধা সংবলিত নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

নতুন এই নীতিমালায় বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন ‘ভিসানীতি-২০২৬’-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। 

পরবর্তীতে খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন এ কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ডাক-টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও আইনমন্ত্রী যুক্ত রয়েছেন এবং কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নতুন এই নীতিমালার বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিদেশিদের যাতায়াত সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবল আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং একটি আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলা।

নীতিমালার পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "আগে আমাদের ভিসা নীতি মূলত সম্পূর্ণ পারস্পরিক সমঝোতা বা 'যেমন নীতি তেমন সুবিধা' (Reciprocity) ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অর্থাৎ অন্য দেশ আমাদের নাগরিকদের যে সুবিধা দেবে, আমরাও ঠিক ততটুকুই দেব। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কোনো দেশের বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এলে যদি আমাদের দেশের লাভ হয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, তবে সে বিষয়টিকে আমাদের ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। এই অর্থনৈতিক তাগিদ থেকেই ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।"

নাসিমুল গনি আরও জানান, প্রস্তাবিত এই নতুন ভিসানীতিতে ভিসার জন্য মোট ৩৪টি ক্যাটাগরি বা বিভাগ রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পরিমার্জন ও অনুমোদনের পর ক্যাটাগরিগুলোর বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৬ সালের পুরোনো নীতিমালার বদলে নতুন ও সময়োপযোগী এই ভিসানীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে প্রযুক্তি বিনিময়, দক্ষ মানবসম্পদ এবং পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।