পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের টিকিট ২৭ লাখ টাকা ছাড়াল

অনলাইন ডেস্কঃ
২ জুলাই, ২০২৬ ৬:৩৪ পিএম
শেয়ার করুন:
পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের টিকিট ২৭ লাখ টাকা ছাড়াল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। টরন্টোয় অনুষ্ঠিতব্য এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। একদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে লুকা মদরিচ—রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক দুই সতীর্থের এই মুখোমুখি লড়াই শুধু একটি সাধারণ নকআউট ম্যাচই নয়, বরং দুজনের যেকোনো একজনের জন্য এটি হতে পারে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। আর এই আবেগ ও রোমাঞ্চকে পুঁজি করেই আকাশ ছুঁয়েছে ম্যাচের টিকিটের দাম।

টিকিটের আকাশচুম্বী দাম
টিকিট কেনাবেচার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘সিটগিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, মাঠের সাইডলাইন আসনের একটি রিসেল (পুনর্বিক্রয়) টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ৭৯২ কানাডিয়ান ডলার পর্যন্ত উঠেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি। এমনকি এই ম্যাচের সবচেয়ে কমদামি টিকিটটির মূল্যও ঠেকেছে ২ হাজার ৪৫৩ কানাডিয়ান ডলারে (প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা)। 

অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী, রিসেল মার্কেটে সবচেয়ে কমদামি টিকিটের গড় মূল্য ৩ হাজার ২২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ লাখ টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। ফলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্টেডিয়ামে বসে এই ঐতিহাসিক ম্যাচ উপভোগ করা অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে।

অথচ শুরুতে ফিফার নির্ধারিত টিকিটের দাম ছিল তুলনামূলক অনেক কম। কানাডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অফিশিয়াল টিকিটের দাম ছিল ৩৩৫ থেকে ৮৭৫ কানাডিয়ান ডলারের মধ্যে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা আনুমানিক ২৯ হাজার থেকে ৭৬ হাজার টাকা)। কিন্তু ম্যাচের গুরুত্ব ও দুই কিংবদন্তির বিদায়ী আবহ টিকিটের চাহিদাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্ষুদ্র স্টেডিয়াম ও স্থানীয় দর্শকদের তুমুল চাপ
টরন্টো স্টেডিয়ামের আসনক্ষমতা মাত্র ৪৩ হাজার ৩৬। ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে এটিই সবচেয়ে ছোট স্টেডিয়াম। ধারণক্ষমতা কম হওয়া এবং এটিই টরন্টো ভেন্যুর শেষ ম্যাচ হওয়ায় টিকিটের চাহিদা ও দাম দুটোই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। 

তাছাড়া টরন্টো ও অন্টারিও অঞ্চলে পর্তুগিজ এবং ক্রোয়াট বংশোদ্ভূত মানুষের বিশাল একটি বসতি রয়েছে। অন্টারিওতে প্রায় ৩ লাখ পর্তুগিজ ও ১ লাখের বেশি ক্রোয়াট বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করেন। ফলে ম্যাচটি স্থানীয় দুই সম্প্রদায়ের কাছেও এক মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

রোনালদো-মদরিচ: ‘লাস্ট ড্যান্স’
৪১ বছর বয়সি রোনালদো এবং ৪০ বছর বয়সি মদরিচ রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দীর্ঘ সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন, জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা একে অপরের মুখোমুখি। যেহেতু এটি নকআউট পর্ব, তাই এই ম্যাচে যে দল হারবে, তাদের বিদায় নিতে হবে। বয়স ও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকা এই দুই কিংবদন্তির একজনের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ। এই আবেগই মূলত ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

নকআউটে দুই দলের যাত্রা ও কোচের ভাবনা
গ্রুপ ‘কে’ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে পা রেখেছে পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার সাথে ড্র করার পর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘এল’-এ দ্বিতীয় হয়ে শেষ ৩২-এ এসেছে ক্রোয়েশিয়া। নিজেদের শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে মদরিচরা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ এই নকআউট পর্বকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, আসল পরীক্ষা এখন থেকেই শুরু। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ কেবল রোনালদো-মদরিচ দ্বৈরথ নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণকে ম্যাচের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন। 

টিকিটের এই লাগামহীন দাম নিয়ে স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অন্টারিওতে টিকিট পুনর্বিক্রয়ের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মে চড়া দামে টিকিট বিক্রি থামানো যাচ্ছে না। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই টিকিটের এই উত্তাপ ম্যাচটির উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।