এমবাপ্পে-ওলিসে জাদুতে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্কঃ
১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫০ এএম
শেয়ার করুন:
এমবাপ্পে-ওলিসে জাদুতে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সুইডেনের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোল, মাইকেল ওলিসের অসাধারণ সৃজনশীলতা আর ব্র্যাডলি বারকোলার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় পেয়েছে ফরাসিরা। এই জয়ে দিদিয়ে দেশমের দল দাপটের সঙ্গে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচে শুরুর দিকে অবশ্য কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল সুইডেন। কোচ গ্রাহাম পটারের দল আক্রমণভাগে আলেক্সান্দার ইসাক, ভিক্টর জিওকেরেস ও অ্যান্থনি এলাঙ্গাকে রেখে ফরাসি রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি চলে যায় ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে। 

ফ্রান্সের ফুটবল সবসময়ই একটু ভিন্ন ঘরানার। দেশমের দল সাধারণত প্রথমার্ধের শুরুতে কিছুটা ধৈর্য ধরে প্রতিপক্ষকে পর্যবেক্ষণ করে, তারপর হঠাৎ ঝড় তোলে। সুইডেনের বিপক্ষেও দেখা গেছে সেই চেনা ছবি। ম্যাচের প্রথম ১৫-২০ মিনিট রয়েসয়ে খেলার পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে, বারকোলা, ওলিসে ও দেম্বেলেদের যৌথ আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে সুইডিশ রক্ষণভাগ।

অবশ্য গোল পাওয়ার আগেই সুইডিশ শিবিরে বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়িয়েছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ২০ মিনিটে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ফরাসি অধিনায়কের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ওলিসের একটি চমৎকার অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টাও দুর্ভাগ্যবশত গোলপোস্টে বাধা পায়। 

অবশেষে ৪৫ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে। ওসমানে দেম্বেলের পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকারভাবে জায়গা তৈরি করে নিচু শটে সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রমকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ওলিসের দুর্দান্ত এক ডিফেন্স-চেরা পাস থেকে বল পান ব্র্যাডলি বারকোলা। পিএসজি-র এই তরুণ ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। গোলটিতে ওলিসের দূরদর্শিতা ও বারকোলার চমৎকার ফিনিশিংয়ের দারুণ মেলবন্ধন দেখা যায়।

দুই গোল হজম করার পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় সুইডেন। বলের দখল, গতি আর ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় ফ্রান্স। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আসে ফ্রান্সের তৃতীয় গোল। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা ওলিসের চোখধাঁধানো আরেকটি পাস খুঁজে নেয় এমবাপ্পেকে। সেখান থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক।

সুইডেনের বিপক্ষে এই জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলদাতার তালিকায় নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছালেন এমবাপ্পে। বিশ্বমঞ্চে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮টি। জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) ছাড়িয়ে এমবাপ্পে এখন লিওনেল মেসির ১৯ গোলের ঠিক পেছনে অবস্থান করছেন। চলতি আসরেই মেসি-এমবাপ্পের এই ব্যক্তিগত লড়াই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ, যা প্রমাণ করে বড় মঞ্চে তিনি কতটা কার্যকর ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

সুইডেনের জন্য ম্যাচটি ছিল চরম হতাশার। ইসাক ও জিওকেরেসদের মতো দুর্দান্ত আক্রমণভাগ নিয়েও তারা ফ্রান্সের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জিওকেরেস গোল করার একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইগনান দারুণ এক সেভে ফ্রান্সের 'ক্লিন শিট' অক্ষুণ্ণ রাখেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।