পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফেরত দিলেন জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুন, ২০২৬ ১১:৫৯ এএম
শেয়ার করুন:
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফেরত দিলেন জেলেনস্কি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ও একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে [১.২.৪, ১.২.৭]। এর জেরে পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ইগল’ ফেরত পাঠিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি [১.২.৫, ১.৩.২]। পোলিশ প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোৎস্কি কর্তৃক এই সম্মাননা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাক রসিদের ছবি প্রকাশ করে তা ফেরত দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন জেলেনস্কি [১.৩.২, ১.৩.৮]।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট লেখেন, "ইউক্রেনীয়রা বিশ্বাস করেছিল ২০২৩ সালে দেওয়া এই সম্মাননাটি মূলত দেশের সাধারণ মানুষ ও আমাদের সেনাবাহিনীর বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ছিল [১.২.৪, ১.২.৫]। আজ আমি এটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কাছে ফেরত পাঠিয়েছি [১.২.৫, ১.৩.৬]। ভবিষ্যৎই প্রমাণ করবে ইউক্রেনীয়রা প্রকৃতপক্ষে কোন সম্মানের যোগ্য [১.২.৪, ১.২.৫]।"

বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি বিশেষ সামরিক ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে এই কূটনৈতিক বিরোধের সৃষ্টি হয় [১.১.১, ১.৩.৬]। গত মে মাসে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ডিক্রির মাধ্যমে ইউক্রেনের বিশেষ অভিযান বাহিনীর একটি ইউনিটের নাম ‘ইউক্রেনিয়ান ইনসার্জেন্ট আর্মি (ইউপিএ)’-এর নামে উৎসর্গ করেন [১.১.১, ১.৩.৯]। 

১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে সক্রিয় থাকা এই বিতর্কিত জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র বাহিনীটির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রায় লক্ষাধিক পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে [১.১.১, ১.১.৯]। পোল্যান্ডের ইতিহাসে এই ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বড় একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত [১.১.৯]।

পোলিশ প্রেসিডেন্ট নাভরোৎস্কি এই নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, "পোলিশ সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে ইউপিএ মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধের জন্য দায়ী একটি সংগঠন [১.১.৯]। ঐতিহাসিক সত্যকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে আপস করা যায় না এবং নিহতদের স্মরণ করা পোলিশ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব [১.১.৯]।" এই বিরোধের জের ধরেই তিনি জেলেনস্কির সম্মাননা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন [১.৩.৩, ১.৩.৬]।

সম্মাননার ইতিহাস ও জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া
২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুডা ইউক্রেনের নিরাপত্তা, দৃঢ়তা এবং মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পোল্যান্ডের এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করেছিলেন [১.২.৫, ১.২.৮]। 

সম্মাননা ফেরত দেওয়ার সময় পোল্যান্ডের পূর্ববর্তী ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে কিছুটা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন জেলেনস্কি [১.২.১, ১.২.৮]। তিনি জানান, অতীতে রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী দ্বিতীয় ক্যাথরিন, ইতালির ফ্যাসিস্ট একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি এবং রুশপন্থী হিসেবে পরিচিত জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদেরও এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল [১.২.১, ১.২.৮]। জেলেনস্কি বলেন, "যদি এই বিশেষ সম্মাননাটি তাদের সাথে রাখার উপযুক্ত মনে করা হয়, তবে ইউক্রেনীয়রা তা নিয়ে কোনো তর্কে জড়াবে না [১.২.৮, ১.৩.৮]।"

তবে তিনি একই সাথে স্পষ্ট করেন যে, ইতিহাস নিয়ে পোল্যান্ডের সাথে যেকোনো অর্থপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সংলাপে বসতে এবং অতীতের কঠিন অধ্যায়গুলো কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেন সর্বদা উন্মুক্ত থাকবে [১.৩.৬, ১.৩.৮]।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ক্ষোভ
পোলিশ প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের পর জেলেনস্কির প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা তাদের পাওয়া পোলিশ সম্মাননা ও পদক ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন [১.২.৩, ১.২.৭]। ইউক্রেনের গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানোভ ও পোল্যান্ডে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিল বোদনার তাদের পোলিশ সম্মাননা পদক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এই ধরণের কূটনৈতিক সংঘাত কেবল রাশিয়ার আগ্রাসনকেই লাভবান করবে [১.২.৩, ১.২.৯]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।