এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতা খুললেই চোখে পড়ে বাবাকে নিয়ে অজস্র ছবি, স্মৃতিচারণ আর আবেগের মেলবন্ধন। কেউ বাবার হাত ধরে হাঁটার সোনালী দিনগুলোর কথা মনে করছেন, কেউবা গভীর ভালোবাসায় বাবাকে জড়িয়ে ধরা ছবি পোস্ট করছেন। কিন্তু এই উৎসবমুখর আবহের আড়ালে এমন কিছু মানুষও আছেন, যাঁরা নিঃশব্দে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্দাটি বন্ধ করে দেন। কারণ, তাঁদের মাথার ওপর থেকে বাবার সেই বটবৃক্ষের মতো ছায়াটি চিরতরে সরে গেছে।
সম্প্রতি পিতৃহারা হওয়া এক সন্তানের লেখনীতে উঠে এসেছে এমনই এক হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি। গত ৩ জুন যিনি তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন, তাঁর কাছে এই দিবসটি আজ পরম শূন্যতার। ঘরের প্রতিটি কোণে, দরজার কড়া নাড়ার শব্দে কিংবা অতি পরিচিত কণ্ঠের ডাকে এখনও বাবার উপস্থিতি অনুভূত হয়। অথচ নির্মম সত্য হলো—কিছু মানুষের চলে যাওয়া পুরো বাড়িটাকেই এক লহমায় বদলে দেয়।
নিরাপত্তার অদৃশ্য প্রাচীর
বাবা চলে যাওয়ার পর যে অদ্ভুত ও রিক্ত অনুভূতি তৈরি হয়, তা প্রকাশ করা কঠিন। হঠাৎ করেই চারপাশের চেনা পৃথিবীটা বড্ড অনিরাপদ মনে হতে শুরু করে। বাবা বেঁচে থাকতে যেকোনো ঝড়েও মনের কোণে একটা নিশ্চিন্ত আশ্রয় থাকত—‘বাবা তো আছেন!’ এই একটিমাত্র বাক্যের শক্তি যে কতটা বিশাল, তা কেবল বাবাকে হারানোর পরেই অনুধাবন করা যায়।
নীরব যোদ্ধা ও আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি
আমাদের বাঙালি সমাজে বাবারা সাধারণত খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করেন না। মুখে ‘ভালোবাসি’ শব্দটি না বললেও, সন্তানের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের মাধ্যমেই সেই গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পায়। রাত জেগে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করা, নিজের প্রয়োজনীয়তা বা শখ অবলীলায় বিসর্জন দিয়ে সন্তানের চাহিদা পূরণ করা—এসবই বাবাদের নিঃশব্দ প্রকাশের ভাষা।
শৈশবে আমরা বাবাকে কেবল একজন কঠোর অভিভাবক হিসেবে দেখলেও, বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে পারি—তিনি আসলে পুরো পরিবারের এক নীরব যোদ্ধা। নিজের জীর্ণ পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত চিকিৎসাকে দূরে সরিয়ে রেখে সন্তানের পড়াশোনা, নতুন জামা আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তাঁরা নিজেদের বিলিয়ে দেন। এই আত্মত্যাগের কোনো হিসাব কোথাও লেখা থাকে না।
আবেগের অদৃশ্য দেয়াল
আমাদের সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশের ওপর এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়, ‘পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই।’ ফলে একজন বাবা শত কষ্ট, ভয়, ব্যর্থতা বা ক্লান্তি থাকলেও তা হাসিমুখে আড়াল করেন। পরিবারের সামনে নিজেকে সবসময় এক অবিচল ঢাল হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে নিজের মানসিক ক্ষতগুলো তাঁরা একাই বয়ে বেড়ান।
প্রযুক্তির দূরত্ব ও হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আমরা ভার্চুয়ালি অনেক যুক্ত থাকলেও, যান্ত্রিকতার ভিড়ে সম্পর্কগুলো কোথাও যেন বড্ড একা হয়ে পড়ছে। একসময়ের পারিবারিক আড্ডা বা রাতের খাবারের সম্মিলিত আনন্দ আজ প্রত্যেকের নিজের স্ক্রিনের আড়ালে হারিয়ে গেছে। ফলে আমাদের অতি সন্নিকটেই থাকা বাবার নীরব উপস্থিতি অনেক সময় আমাদের অলক্ষ্যেই রয়ে যায়।
বাবার কি সত্যিই মৃত্যু হয়?
বাবা দিবস কারও জন্য উদযাপনের হলেও, কারও জন্য এটি তীব্র ব্যক্তিগত শূন্যতার দিন। তবে বাবারা কি সত্যিই হারিয়ে যান? হয়তো না। একজন বাবা চিরকাল বেঁচে থাকেন তাঁর শেখানো সততায়, সাহসে, ব্যবহারে আর রেখে যাওয়া আদর্শে। কখনো আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের অবয়বে বাবার ছায়া ভেসে ওঠে, কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্তে তাঁর উপদেশ কানে বেজে ওঠে। মৃত্যুর পরেও বাবারা এভাবেই সন্তানের অস্তিত্বে মিশে থাকেন।
তাই এই বিশেষ দিনে যাঁদের বাবা পাশে আছেন, তাঁদের উচিত ব্যস্ততার ভিড় ঠেলে বাবাকে কিছুটা সময় দেওয়া, তাঁর পাশে বসা। আর যাঁদের বাবা আজ স্মৃতির ওপারে চলে গেছেন, তাঁরা হয়তো নীরব শ্রদ্ধায়, প্রার্থনায় আর পুরোনো স্মৃতির পাতায় খুঁজে নেবেন তাঁদের পরম নির্ভরতার সেই মানুষটিকে।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ফরিদপুর | ৬ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় | ৬ আগস্ট, ২০২৬
ক্যাম্পাস | ৬ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় | ৬ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় | ৬ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।