পাগলা মসজিদে ৩ ঘণ্টায় মিলল ১০ কোটি টাকা, এখনো চলছে গণনা

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ জুন, ২০২৬ ৬:৫৩ পিএম
শেয়ার করুন:
পাগলা মসজিদে ৩ ঘণ্টায় মিলল ১০ কোটি টাকা, এখনো চলছে গণনা

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে প্রথম তিন ঘণ্টার গণনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। তবে টাকা গণনার কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি।

আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর বাক্সগুলো থেকে টাকা বের করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নেওয়া হয় মসজিদের দ্বিতীয় তলায়। সেখানে সকাল ৯টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। 

এই বিশাল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মাদ্রাসার প্রায় ৩০০ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

নগদ টাকার পাশাপাশি এবারও দানবাক্সগুলোতে বিপুল পরিমাণ সোনা ও রূপার অলংকার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এছাড়া ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নিয়মিতভাবে এই মসজিদে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ ও ডিমসহ নানা ধরনের সামগ্রী দান করে থাকেন।

রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকা গণনা সম্পন্ন হয়েছে। পুরো অর্থ গণনা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, এই মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং পরিচালন ব্যয় মেটানোর পর উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি দান করা ১১৪ কোটি টাকা এবং অনলাইনে সংগৃহীত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া দানের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্সগুলো খুলে রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময়ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।