পরিবেশক ব্যবসায়ীর ভল্ট থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে ৩

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
১৬ জুন, ২০২৬ ৭:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
পরিবেশক ব্যবসায়ীর ভল্ট থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে ৩

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারের এস বি কমিউনিকেশন নামের একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম। তিনি জানান, ঘটনার দিন রোববার ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজ গেট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার শরিফ উল্যার ছেলে ইমাম হোসেন (২৪) ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আনোয়ার আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২১)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বসুরহাট বাজারের এস বি কমিউনিকেশন পরিবেশক প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অমিত সাহা (৩৩)। তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। সম্প্রতি তার আচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গত রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তাকে তার বাসায় পাঠানো হলে অমিত সাহা দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি। পরবর্তীতে আবারও তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসাটি তালাবদ্ধ এবং তিনি সেখানে নেই। এতে সন্দেহ হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ক্যাশ ভল্ট ও হিসাবপত্র যাচাই করেন। এ সময় ভল্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানে যথাক্রমে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা ওই অর্থ গ্রহণ করেননি। ঘটনার পর থেকে অমিত সাহা পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইমন সাহার দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওসি মো. নুরুল হাকীম আরও বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।